অতিরিক্ত সচিবদের বিদেশ সফরে ইকোনমি ক্লাস বাধ্যতামূলক | চ্যানেল আই অনলাইন

অতিরিক্ত সচিবদের বিদেশ সফরে ইকোনমি ক্লাস বাধ্যতামূলক | চ্যানেল আই অনলাইন

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে কঠোর ব্যয়সংকোচন নীতির অংশ হিসেবে অতিরিক্ত সচিবদের বিদেশ ভ্রমণে ইকোনমি ক্লাসে যাতায়াতের নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত সচিব ও সমপর্যায়ের কর্মকর্তাদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিদেশ সফরে বিজনেস, ক্লাব বা এক্সিকিউটিভ শ্রেণির পরিবর্তে সুলভ শ্রেণি (ইকোনমি ক্লাস) ব্যবহার করতে হবে। আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১২ সালের ৯ অক্টোবর জারি করা ভ্রমণ ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত পূর্বের নির্দেশনা থাকলেও বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে।

এর আগে ৫ এপ্রিল জারি করা এক পরিপত্রে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট বাস্তবায়নে ব্যাপক ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা দেয় অর্থ বিভাগ। এতে বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের সীমা নির্ধারণ ও কিছু ব্যয় স্থগিত করা হয়।

নির্দেশনা অনুযায়ী—মোটরযান, জলযান ও আকাশযান ক্রয়ে বরাদ্দ ব্যয় বন্ধ রাখা হয়েছে, সরকারি অর্থায়নে বিদেশে প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও ওয়ার্কশপ সাময়িকভাবে স্থগিত, সেমিনার ও কনফারেন্স খাতে ব্যয় সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ এবং আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশে সীমিত, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও ভ্রমণ খাতে বরাদ্দের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ ব্যয়ের অনুমতি, কম্পিউটার ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি ক্রয় স্থগিত, ভবন নির্মাণে অবশিষ্ট অর্থের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ব্যয় অনুমোদন। তবে যেসব নির্মাণকাজ ৭০ শতাংশের বেশি সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে ব্যয় করা যাবে।

এছাড়া ভূমি অধিগ্রহণে পরিচালন বাজেটের আওতায় ব্যয় বন্ধ রাখা হলেও উন্নয়ন বাজেটে নির্দিষ্ট শর্তে ব্যয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের গাড়ি ক্রয়ে সুদমুক্ত ঋণ সুবিধাও স্থগিত করা হয়েছে। একই দিনে জারি করা আরেক আদেশে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের গাড়ির জ্বালানি ব্যয় ৩০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, করোনা মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে দেশের অর্থনীতিতে চাপ বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার এসব পদক্ষেপ নিচ্ছে।