অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার, উত্তরণ ও পুনর্গঠনের তিন ধাপে এগোবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী | চ্যানেল আই অনলাইন

অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার, উত্তরণ ও পুনর্গঠনের তিন ধাপে এগোবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী | চ্যানেল আই অনলাইন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার, উত্তরণ ও পুনর্গঠন এই তিন ধাপে এগিয়ে নিতে চায় সরকার। এবারের বাজেট কেবল বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; বরং এটি একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির ভিত্তি গড়ার রূপরেখা।

আজ (২৯ জুন) সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, দেশে এখন একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অতীতের দিকে না তাকিয়ে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। যদিও সংসদে অতীত নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে, জনগণ চায় ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলা হোক এবং আশার বার্তা দেওয়া হোক।

অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, অর্থ পাচারের কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে গিয়েছিল। এছাড়া বিগত সরকারের নেওয়া বিপুল বৈদেশিক ঋণের বোঝা জনগণকে দীর্ঘদিন বহন করতে হবে। প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া মানুষের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬১টি পণ্যের শুল্ক প্রত্যাহারের ফলে অন্য বছরের মতো এবার বাজেট ঘোষণার আগে বা পরে নিত্যপণ্যের দাম বাড়েনি।

তিনি বলেন, এতে সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছে। উন্নয়ন বলতে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, বরং সাধারণ মানুষের ঘরে স্বস্তি ফিরে আসাকেই প্রকৃত উন্নয়ন। বাজেটের মূল লক্ষ্য হলো বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করে অর্থনীতির গতি ফিরিয়ে আনা এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো। সম্পদের সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে সরকার দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন বাজেট ৫০ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে, যাতে জনগণের অর্থ জনগণের কল্যাণেই ব্যয় করা যায়। সরকার এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায়, যা ঋণনির্ভর নয়, বরং উৎপাদন ও বিনিয়োগনির্ভর হবে। একই সঙ্গে এমন পরিবেশ তৈরি করা হবে, যাতে তরুণরা নিজেরাই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

বক্তব্যের শেষদিকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের মূল দর্শন হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’। এই লক্ষ্য নিয়েই দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাবে সরকার।