
জরাজীর্ণ ছোট্ট একটি ঘর। নেই ফ্যান, পর্যাপ্ত বেঞ্চ, ভালো ব্ল্যাকবোর্ড কিংবা শৌচাগার। বৃষ্টি হলে ঘরে পানি পড়ে, গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে শিশুরা-এমন নানা সংকটের মধ্যেই বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার চরবানিয়ারী ইউনিয়নের চণ্ডীর ভিটার গরীবপুর উত্তরপাড়া পাঠশালায় চলছে কোমলমতি শিশুদের পড়াশোনা।
এই পাঠশালার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িয়ে আছেন নমিতা মন্ডল। ১৯৮৯ সালে এসএসসি পাস করার পর স্থানীয় শিশুদের পড়ানো শুরু করেন তিনি। স্বামী পঙ্গু হওয়ায় সংসারে অভাব অনটনের মধ্যেও নিজের দুই সন্তানকে পড়াশোনা করানোর পাশাপাশি শিশুদের শিক্ষাদানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তার এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় গরীবপুর উত্তরপাড়া পাঠশালা।
মাত্র পাঁচজন শিক্ষার্থী দিয়ে শুরু হওয়া পাঠশালায় তখন মাসিক বেতন ছিল ৩০ টাকা। বর্তমানে শিক্ষার্থীপ্রতি নেওয়া হয় ২৫০ টাকা। সপ্তাহে ছয় দিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত পাঠদান করেন নমিতা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ছোট্ট ঘরটিতে গাদাগাদি করে বসে পড়াশোনা করছে শিশুরা। প্রচণ্ড গরমে কেউ খাতা বই দিয়ে নিজেকে বাতাস করছে, আবার কেউ অভিভাবকের হাতে থাকা খাতার বাতাসে স্বস্তি নেওয়ার চেষ্টা করছে। ঘরের অবস্থা জরাজীর্ণ হওয়ায় বর্ষাকালে পানি পড়ে বই খাতা ভিজে যায়।

নমিতা মন্ডল বলেন, সংসারে স্বচ্ছলতা ছিল না। স্বামী পঙ্গু হওয়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। নিজের সন্তানদের পড়াশোনা ও সংসারের খরচ চালাতে ৩০ টাকা দিয়ে শিশুদের পড়ানো শুরু করি। এখন বেতন ২৫০ টাকা হলেও পাঠশালার নানা সংকট রয়ে গেছে। সরকার যদি একটু নজর দিত, তাহলে শিশুদের আরও ভালোভাবে পড়াতে পারতাম।
অভিভাবকরা জানান, লেখাপড়া ভালো হওয়ায় তারা সন্তানদের এই পাঠশালায় পাঠান। তবে ফ্যান, বসার ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানি ও শৌচাগার না থাকায় শিশুদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়।
স্থানীয়দের দাবি, সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়া এই পাঠশালার অবকাঠামোগত উন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
অভাবের সংসারের দায়িত্ব সামলে ৩৭ বছর ধরে শিশুদের হাতে শিক্ষার আলো তুলে দিচ্ছেন নমিতা। জরাজীর্ণ ঘর আর নানা সংকটের মধ্যেও থেমে নেই তার পাঠশালা, থেমে নেই শিশুদের স্বপ্ন দেখার পথ।
প্রতিবেদক
আল আমিন খান
বাগেরহাট প্রতিনিধি
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…


