আইএমএফ ও এডিবি মিশন: এবার কি সত্যিই সংস্কার হবে

আইএমএফ ও এডিবি মিশন: এবার কি সত্যিই সংস্কার হবে

তবে রাজস্ব সংস্কার মানেই করের হার বৃদ্ধি নয়। প্রকৃত সংস্কার হলো কর প্রশাসনকে প্রযুক্তিনির্ভর করা, করের আওতা সম্প্রসারণ, কর ফাঁকি কমানো এবং স্বেচ্ছায় কর প্রদানের পরিবেশ তৈরি করা। রাষ্ট্র ও করদাতার সম্পর্ক যদি আস্থার ভিত্তিতে গড়ে না ওঠে, তাহলে কেবল আইন পরিবর্তন করে রাজস্ব বাড়ানো সম্ভব নয়।

সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকিং খাত। দীর্ঘদিন ধরে খেলাপি ঋণ, দুর্বল করপোরেট সুশাসন, রাজনৈতিক প্রভাব এবং মূলধনের ঘাটতি নিয়ে আলোচনা হলেও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। একটি ব্যাংকিং ব্যবস্থা তখনই কার্যকর হয়, যখন আমানতকারী নিশ্চিন্ত থাকেন এবং উদ্যোক্তা বিশ্বাস করেন যে যোগ্যতার ভিত্তিতে অর্থায়ন পাওয়া সম্ভব। সেই আস্থা ক্ষয়ে গেলে পুরো অর্থনীতিই তার মূল্য দেয়। তাই ব্যাংক সংস্কারকে আর কেবল আর্থিক খাতের সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি এখন প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের কেন্দ্রীয় ইস্যু।

আইএমএফের প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাসও তাই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সরকার যেখানে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, সেখানে আইএমএফ ৩ দশমিক ৫ শতাংশের পূর্বাভাস দিয়েছে। এই পার্থক্য কেবল দুটি সংখ্যার ব্যবধান নয়; এটি নীতিনির্ধারকদের প্রত্যাশা এবং আন্তর্জাতিক মূল্যায়নের মধ্যে বিদ্যমান দূরত্বের প্রতিফলন। সেই দূরত্ব কমানোর একমাত্র পথ বাস্তবভিত্তিক সংস্কার।

অন্যদিকে সরকারের অবস্থানও বিবেচনার দাবি রাখে। নির্বাচিত সরকারকে অর্থনৈতিক বাস্তবতার পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতাও সামাল দিতে হয়। হঠাৎ কঠোর সংস্কার অনেক সময় সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ফলে ধাপে ধাপে এগোনোর কৌশল অযৌক্তিক নয়। তবে সেই ধাপগুলোর সময়সীমা, অগ্রাধিকার ও বাস্তবায়নের দায়বদ্ধতা স্পষ্ট না থাকলে সংস্কারের গতি আবারও শ্লথ হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকবে।