অভাবের তাড়নায় স্কুলমুখী হওয়ার বদলে ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদেরও পরিবারের সঙ্গে জাল ফেলতে হচ্ছে উত্তাল নদীতে। ছোট্ট রুমান কিংবা জাহাঙ্গীরের মুখে যখন শোনা যায়, ‘ঘরে ভাত না থাকলে স্কুল দিয়া কী করমু? স্কুলে গেলে খাওয়া দেবে কেডা?’—তখন প্রাথমিক শিক্ষাকে শতভাগ নিশ্চিতে রাষ্ট্রীয় স্লোগানগুলোর দুর্বলতাই প্রকট হয়ে ওঠে।
মর্মান্তিক এই বেঁচে থাকার লড়াইয়ের চেয়েও হতাশার জায়গাটি হলো প্রশাসনিক অন্ধত্ব। দীর্ঘকাল ধরে নদীতে মাছ ধরলেও এদের নামের পাশে সরকারিভাবে ‘জেলে’ তকমাটি আজও জোটেনি। কারণ হিসেবে স্থানীয় মৎস্য কর্মকর্তা ও প্রশাসন বলছে, এসব জেলের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই। আর জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য দরকার বাড়ির হোল্ডিং নম্বর ও জনপ্রতিনিধির প্রত্যয়নপত্র। জীবন যাঁদের নিরন্তর ভাসে নদীর জলে, ডাঙায় যাঁদের এক ছটাক মাটিও নেই, তাঁদের কাছে বাড়ির হোল্ডিং নম্বর চাওয়াটা চরম অযৌক্তিক। এটি স্পষ্টতই আমলাতান্ত্রিক মারপ্যাঁচ, যার বেড়াজালে আটকে হতদরিদ্র এই মানুষগুলোকে সরকারের ভিজিএফ চাল থেকে শুরু করে অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর সুবিধা থেকে দিনের পর দিন বঞ্চিত করা হচ্ছে।




