
মুম্বাই, ৩০ এপ্রিল – ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ১৯তম আসর লক্ষ্য তাড়ায় জয়ের দিক থেকে অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছেছে। টুর্নামেন্টের চলতি আসরে গত বুধবার মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মধ্যকার ম্যাচে এক আসরে সর্বোচ্চ ১০টি ম্যাচে দুইশ এর বেশি রান তাড়া করে জয়ের অনন্য রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটার রায়ান রিকেলটনের অনবদ্য সেঞ্চুরি সত্ত্বেও ট্রাভিস হেড ও হেইনরিখ ক্লাসেনদের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ২৪৪ রানের পাহাড় সমান লক্ষ্য তাড়া করে জয় ছিনিয়ে নেয় হায়দরাবাদ।
চলতি আইপিএলে এখন পর্যন্ত ৪১টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ফাইনালসহ আরও ৩৩টি ম্যাচ বাকি রয়েছে। তবে এরই মধ্যে ১০টি ম্যাচে ২০০ এর অধিক রান তাড়া করে জেতার কৃতিত্ব দেখিয়েছে পরে ব্যাটিং করা দলগুলো।
এর আগে ২০২৫ সালের আসরে সর্বোচ্চ ৯টি ম্যাচে এমন সাফল্যের রেকর্ড ছিল। কয়েক দিন আগেই টি টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২৬৪ রান তাড়া করে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিল পাঞ্জাব কিংস। আইপিএলের এবারের আসরটি যে লক্ষ্য তাড়ায় বড় ধামাকা নিয়ে এসেছে তা ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে।
মুম্বাইয়ের ওয়ানখেড়ে স্টেডিয়ামে স্বাগতিক মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেটে ২৪৩ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায়।
ওয়ানখেড়েতে টি টোয়েন্টির প্রথম ইনিংসে এটিই কোনো দলের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। তবে পাহাড় সমান এই রান তাড়া করতে নেমে হায়দরাবাদ আইপিএল ইতিহাসের চতুর্থ সর্বোচ্চ ২৪৪ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে। তারা ৮ বল এবং ৬ উইকেট হাতে রেখেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। ফলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের জার্সিতে দ্রুততম সেঞ্চুরি এবং সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ড গড়েও হারের তিক্ত স্বাদ পেতে হয় রায়ান রিকেলটনকে।
মুম্বাইয়ের ইনিংসে রিকেলটন ও উইল জ্যাকস মিলে দলকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন। পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়েই তারা ৭৮ রান সংগ্রহ করেন। দলীয় ৯৩ রানে জ্যাকস ফিরলেও রিকেলটন ইনিংসের শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করেন।
৫৫ বলে ১০টি চার ও ৮টি ছক্কার সাহায্যে ১২৩ রানের নান্দনিক ইনিংস খেলেন এই প্রোটিয়া তারকা। রিকেলটন মাত্র ৪৪ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন যা মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ইতিহাসে দ্রুততম।
এর আগে ২০০৮ সালে সনৎ জয়সুরিয়া ৪৫ বলে সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েছিলেন। একই সাথে জয়সুরিয়ার করা ১১৪ রানের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ডটিও নিজের করে নেন রিকেলটন।
জয়ের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে হায়দরাবাদের ট্রাভিস হেড ও অভিষেক শর্মা ব্যাটিং তাণ্ডব চালান। এই জুটি পাওয়ার প্লেতেই স্কোরবোর্ডে ৯২ রান যোগ করে। দুই দল মিলিয়ে পাওয়ার প্লেতে ১৭০ রান সংগ্রহ করে যা আইপিএলের ইতিহাসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ পাওয়ার প্লে স্কোর।
হেড ৩০ বলে ৭৬ রান এবং অভিষেক ৪৫ রান করে আউট হলেও জয়ের পথে কোনো বাধা আসতে দেননি হেইনরিখ ক্লাসেন। ক্লাসেনের ৩০ বলে ৬৫ এবং সলিল অরোরার ১০ বলে ৩০ রানের ক্যামিও ইনিংস হায়দরাবাদের জয় নিশ্চিত করে।
এনএন/ ৩০ এপ্রিল ২০২৬






