আড্ডা থেকে নাম, সেই প্রেমতলা বদলে গেছে, আছে শুধু নামের গল্প

আড্ডা থেকে নাম, সেই প্রেমতলা বদলে গেছে, আছে শুধু নামের গল্প

প্রেমতলায় ২০ বছর ধরে চা ও কনফেকশনারির দোকান চালান ৭০ বছর বয়সী আবদুর রব হাওলাদার। একসময় যে জমিতে চাষাবাদ করতেন, সেখানেই এখন তাঁর ব্যবসা। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘৩৬ বছর আগে এই এলাকায় রাস্তার দুই পাশে ছিল ফসলি জমি। আমরা জমিতে চাষাবাদ করতাম। কৃষিপণ্য বাসে করে বিভিন্ন হাটবাজারে নিয়ে যেতাম। পরে কৃষিকাজ ছেড়ে এখানে দোকান দিয়েছি। গত ৩৬ বছরে এলাকাটির অনেক পরিবর্তন হয়েছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও গড়ে উঠেছে।’

নেই সেই বটগাছ, আছে শুধু স্মৃতি
যে বটগাছের নিচে বসে প্রেমতলার নামকরণের সিদ্ধান্ত হয়েছিল, সেই গাছ এখন আর নেই। প্রায় ১০ বছর আগে গাছটি কেটে ফেলা হয়েছে। প্রেমতলার পরিবর্তন নিজের চোখে দেখেছেন শরীয়তপুর সদর উপজেলার বুড়িরহাট উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক পলাশ চন্দ্র রায়। কথা বলতে বলতে তিনি ফিরে যান ৩৬ বছর আগের দিনগুলোতে। তাঁর স্মৃতিতে ভেসে ওঠে ফসলি জমির মাঝ দিয়ে চলে যাওয়া মেঠো পথ, বটগাছের ছায়া আর দখিনা বাতাসের কথা। তিনি আজও মাঝেমধ্যে এখানে আসেন, বন্ধুদের সঙ্গে চায়ের আড্ডায় বসেন।

সময়ের সঙ্গে প্রেমতলা বদলেছে। বেড়েছে যানবাহন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মানুষের ভিড়। ইট-পাথরের অবকাঠামো আর যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততায় হারিয়ে গেছে সেই নির্জন প্রান্তর। তবে কয়েকজন কিশোর-তরুণের আড্ডা থেকে জন্ম নেওয়া নামটি রয়ে গেছে। প্রেমতলার ব্যস্ততম বর্তমানের আড়ালে আজও বেঁচে আছে একটি বটগাছকে ঘিরে গড়ে ওঠা ৩৬ বছর আগের গল্প।