জীবন শেষ করে দিতে কুমারধারা নদীর সেতু থেকে নিচে ঝাঁপ দিয়েছিলেন তিনি—উদ্দেশ্য ছিল একটাই, চিরতরে সব সমস্যার ইতি টানা। কিন্তু মৃত্যুকে অত কাছ থেকে দেখতেই মন বদলে গেল চোখের পলকে! নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার পর পরই যখন একটি বিশালাকার কুমির তাঁকেই রাতের খাবার বানাতে তেড়ে এলো এবং কামড় বসাল, অমনি বেঁচে থাকার আকুল আকুতিতে আর্তচিৎকার শুরু করে দিলেন সেই নারী।
গত বুধবার (৪ নভেম্বর) গভীর রাতে ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের দক্ষিণ কন্নড় জেলার কুক্কে সুব্রহ্মণ্য অঞ্চলের কুমারধারা সেতুর নিচে ঘটে গেছে এই শিউরে ওঠার মতো রোমাঞ্চকর ঘটনা!
এনডিটিভির প্রতিবেদন সূত্রে ভারতীয় পুলিশ প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক টানাপোড়েনে চরম মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন ওই নারী। হতাশার চরম সীমায় পৌঁছে তিনি রাতে কুমারধারা সেতুর ওপর থেকে গহীন নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
কিন্তু ভাগ্যের নির্মম নাকি অদ্ভুত এক পরিহাস, নদীতে তলিয়ে যাওয়ার আগেই এক কুমির গিয়ে হাজির! কুমিরটি তাঁর ওপর আক্রমণ চালিয়ে কামড় বসায় এবং তিনি কিছুটা আঘাতপ্রাপ্ত হন।
তবে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়ে ঝাঁপ দেওয়া সেই নারী কুমিরের মুখেই নিজের আসল ভুল বুঝতে পারেন। মৃত্যু ভয় চেপে বসতেই তিনি পানির মধ্যে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। গভীর রাতে নদীর তীরের একটি স্থানীয় লজের কর্মচারীরা এই বিকট চিৎকার শুনে ছুটে আসেন এবং চোখের সামনে অবিশ্বাস্য দৃশ্য দেখে দ্রুত সুব্রহ্মণ্য থানায় খবর দেন।
খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশের এক বিশেষ দল। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে কুমিরের মুখ থেকে ওই নারীকে জীবিত অবস্থায় টেনে তোলা হয়।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
পানি থেকে বাঁচিয়ে আনার পর দ্রুত তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর পরিবারকে ইতোমধ্যেই খবর দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় মানসিক কাউন্সেলিংয়ের পর তাঁকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। পরিবারের অনুরোধ ও সুরক্ষার কথা ভেবে এবং গোপনীয়তা বজায় রাখতে ওই নারীর নাম ও পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ প্রশাসন।




