দেশের শ্রোতাপ্রিয় লোকসংগীতশিল্পী আনুশেহ আনাদিল। তার সুরের মূর্ছনা ছড়িয়েছে ওপার বাংলাতেও। দুই বাংলায়ই রয়েছে তার অগণিত ভক্ত-অনুরাগী। তবে অনেক দিন ধরেই গানের মঞ্চে তার উপস্থিতি নেই, প্রচারের আলো থেকেও অন্তরালে আনুশেহ। হঠাৎ একটি ভিডিও ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে, যা দেখে সকলেই চমকে গিয়েছেন। এ ভিডিওতে মরমি এই শিল্পী জানিয়েছেন—নেশার কারণে গান ছাড়েননি তিনি।
ভিডিওতে দেখা যায়, লিকলিকে গড়নের আনুশেহ আনাদিল বসে আছেন। মাথার চুলগুলো আলগা করে ছেড়ে দেওয়া। চোখের নিচে ডার্ক সার্কেল (কালো দাগ)। লালনের সহজ কথা সহজ ভাষায় যেমন এই শিল্পী তুলে ধরেন, এ ভিডিও বার্তায়ও তার ব্যত্যয় ঘটেনি।
প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে আনুশেহ আনাদিল বলেন, “আমাকে দেখতে কি হিরোঞ্চির মতো লাগে? না কি কোনো নেশাখোরের মতো লাগে? আমি দেখতে অনেক চিকন! চিকন হয়েছি, এটা সত্যি! হয়তোবা আমি আমার নিজের যত্ন ঠিকমতো নিই না। এটাও সত্যি। আমি চেষ্টা করছি।”
আনুশেহর মা লুবনা মারিয়াম বাংলাদেশের বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী, শিল্প নির্দেশক ও গবেষক। ওস্তাদ সগীরুদ্দীন খানের কাছ থেকে উত্তর ভারতীয় ক্লাসিক্যাল সংগীতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন আনুশেহ আনাদিল। তারপর লোকসংগীত গাওয়া শুরু করেন এই শিল্পী
আনুশেহর মা লুবনা মারিয়াম বাংলাদেশের বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী, শিল্প নির্দেশক ও গবেষক। ওস্তাদ সগীরুদ্দীন খানের কাছ থেকে উত্তর ভারতীয় ক্লাসিক্যাল সংগীতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন আনুশেহ আনাদিল। তারপর লোকসংগীত গাওয়া শুরু করেন এই শিল্পী
নেশার কারণে গান ছাড়েননি আনুশেহ আনাদিল। তা স্মরণ করে এই শিল্পী বলেন, “আমি বলব—আমাকে নিয়ে এত চিন্তা কইরেন না, প্লিজ। আর দূর থেকে বসে আমাকে বিচার কইরেন না। এটাও ভাইবেন না, নেশার কারণে আমি গান ছেড়েছি বা গান গাইতে পারি না। কারণ আমি এখনো পুরোপুরি গান গাইতে পারি। আমি একটু আগে একাধিক মহিলার জন্য গান গেয়ে আসছি।”
বাণিজ্যিক গান গাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন আনুশেহ আনাদিল। জীবনটাকে সহজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তার ভাষ্য—“আমি এখন বড় বড় কনসার্ট করি না। আমি কমার্শিয়ালি গান করি না। আমি আমার জীবনে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমি আমার জীবনটাকে সহজ করব। আমি ওই পথেই আছি। আমি একটা মাটির বাড়ি বানিয়েছি। জানি না, আপনারা কারা কারা আমার সরল বাড়িতে গিয়েছেন।”
আনুশেহ আনাদিলের ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তৈরি হয়েছে আলোচনা। ভিডিওটি কীভাবে কোথা থেকে ছড়িয়েছে, কেন এমন বার্তা দিলেন, সে বিষয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রিয় শিল্পীকে দেখতে পেয়ে নস্টালজিক হয়ে পড়েছেন তার ভক্ত-অনুরাগীরা।
হানিফ নামে একজন লেখেন, “কারো কথায় কিচ্ছু আসে যায় না। গানগুলোর মাধ্যমে যে আনন্দ, যে স্মৃতি, যে বন্ধুত্বের স্বাদ আমাদেরকে দিয়েছেন এর জন্য আজীবন আপনি সম্মানিত থাকবেন আমাদের হৃদয়ে।” জামাল লেখেন, “উনি খুব ভালো মনের এবং মানবিক একজন মানুষ।” আনুশেহ কেন গানে নেই তা নিয়েও অনেকে যাতনামাখা মন্তব্য করেছেন। এমন অসংখ্য মন্তব্য ভেসে বেড়াচ্ছে অন্তর্জালে।
বাংলা ব্যান্ড দলের সদস্য বুনোকে বিয়ে করেন আনুশেহ আনাদিল। এ সংসারে তাদের দুটো কন্যাসন্তান রয়েছে। পরবর্তীতে এ সংসার ভেঙে যায়। ২০১৬ সালে গিটারিস্ট সেথ পান্ডুরাঙা ব্লুমবার্গকে বিয়ে করেন আনুশেহ আনাদিল
বাংলা ব্যান্ড দলের সদস্য বুনোকে বিয়ে করেন আনুশেহ আনাদিল। এ সংসারে তাদের দুটো কন্যাসন্তান রয়েছে। পরবর্তীতে এ সংসার ভেঙে যায়। ২০১৬ সালে গিটারিস্ট সেথ পান্ডুরাঙা ব্লুমবার্গকে বিয়ে করেন আনুশেহ আনাদিল
গত জুলাই মাসের শেষ লগ্নে আনুশেহ আনাদিল জানান, ধীরে ধীরে শ্রবণশক্তি হারাচ্ছেন তিনি। ‘টিনিটাস’ নামে একটি সমস্যায় ভুগছেন। এ কারণে তার কানের ভেতরে সব সময় এক ধরনের শব্দ হয়, যা ধীরে ধীরে তার শ্রবণক্ষমতায় প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে উচ্চ শব্দও এখন তার জন্য অসহনীয় হয়ে উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এ স্টেটমেন্টে আনুশেহ গান থেকে দূরে থাকার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আমি শুধু সত্যিটা বলতে চেয়েছিলাম, কেন আমি আর গান করি না। আমি ধীরে ধীরে আমার শোনার ক্ষমতা হারাচ্ছি। আমার টিনিটাস হয়েছে। আর কানের ভেতরের শব্দ এত জোরে যে আমি আর উচ্চ শব্দ সহ্য করতে পারি না। এটি আক্ষরিক অর্থেই আমার কানে ব্যথা তৈরি করে।”
বাংলাদেশের লোকসংগীতের অন্যতম পরিচিত শিল্পী আনুশেহ আনাদিল। ব্যান্ড ‘বাংলা’-এর মাধ্যমে দেশীয় লোকসংগীতকে নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করেছেন। নিজস্ব কণ্ঠ, গায়কির ধরন ও শেকড়ের সংগীতের প্রতি গভীর অনুরাগের কারণে দীর্ঘদিন ধরে শ্রোতাদের ভালোবাসা পেয়েছেন আনুশেহ।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
লালন, বাউল ও মরমি গানের দর্শনকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে আনুশেহর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তার গাওয়া শ্রোতাপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে—‘ঘাটে লাগাইয়া ডিঙ্গা’, ‘সহজ মানুষ’, ‘তোমার ঘরে বসত করে কয়জনা’, ‘কৃষ্ণপক্ষ’, ‘আমি ওপার হয়ে’ প্রভৃতি।




