ছোট পর্দার অভিনয়শিল্পী যাহের আলভী-র স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরা-র মৃত্যুকে ঘিরে চলমান বিতর্কে অবশেষে মুখ খুললেন অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথি। বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে নিজের ফেসবুক আইডিতে দীর্ঘ এক পোস্টে ইকরার সঙ্গে ব্যক্তিগত চ্যাটের ৪০টিরও বেশি স্ক্রিনশট প্রকাশ করেন তিনি।
ব্যক্তিগত চ্যাটের স্ক্রিনশট প্রকাশ করে তিথি বলেন,“ভেবেছিলাম এইগুলা পাব্লিকলি দিবো না। প্রশাসনের প্রয়োজন হলে সেখানে দিবো সবার সম্মান রক্ষার্থে। কিন্তু আমাকে যেভাবে হ্যারাস করা হচ্ছে, আর চুপ থাকা গেলো না। অলরেডি কিছু জায়গায় অডিও স্টেটমেন্ট দিয়েছিলাম আমি। আর যারা নিজেরা খুব সাধু সাজতেসেন, আপনারা কি সেটার আমলনামাও আছে।”
দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে তিথি দাবি করেন, আলভীর সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো ‘ভুল ব্যাখ্যা’ এবং ‘অপপ্রচার’। ইকরার সঙ্গে তার সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল বলে আগেই পরিস্কার করেছেন।
পোস্টে ‘ইকরার সঙ্গে ছিল স্বাভাবিক যোগাযোগ’ দাবি করে তিথি জানান, ইকরার সঙ্গে তার নিয়মিত ও স্বাভাবিক কথাবার্তা হতো। পারিবারিক অশান্তি, ব্যক্তিগত হতাশা ও ডিপ্রেশনের বিষয়েও ইকরা বিভিন্ন সময় তার সঙ্গে কথা বলেছেন। স্ক্রিনশটগুলো প্রকাশ করে তিথি বলেন,“ইকরার সংসার ভাঙার কোনো ইচ্ছা কখনোই ছিলো না।” বরং তিনি ইকরাকে কাজের মধ্যে সক্রিয় থাকতে এবং নিজের পায়ে দাঁড়াতে উৎসাহ দিয়েছেন।
তিনি লেখেন, “আমি কখনও বলিনি তুমি ডিভোর্স দাও, আমি আলভীকে বিয়ে করবো। বরং বলেছি—তুমি তার কুইন।”
ইকরাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগও সরাসরি অস্বীকার করেন তিথি। এ বিষয়ে তিথি বলেন,“কারো সংসার ভাঙার ইচ্ছা আমার ছিলো না। ও কয়েকবারই আমাকে বলেছে ও আমেরিকা চলে যাবে, আমার রিপ্লাই বরাবরই ছিলো ‘এহ, বললেই হবে! চাইলেও যেতে পারবা না, you love him. You are queen, you are his queen.’ তাহলে আত্মহত্যার জন্য উস্কানি আমি কেমন করে দিবো? আর যাই বলেন, এইটা বলতে পারেন না যে ওকে নিজের জীবন নিয়ে নেওয়ার জন্য উস্কে দিয়েছি।”
তিথির পোস্টে ইকরার পরিবারের প্রসঙ্গও উঠে আসে। তার দাবি, ইকরা নিজেই পরিবারের সঙ্গে দূরত্ব ও মানসিক কষ্টের কথা লিখেছিলেন। এ বিষয়ে তিথি লিখেন,“একটা মেয়ে যত যাই হোক নিজের বাবা মাকে নিয়ে তো মিথ্যা বলবে না। আমি উনাদের দোষ দিচ্ছি না। কিন্তু ইকরার মনে ওর পরিবার নিয়েও কষ্ট ছিলো। ওর ফিল হতো যে ওর পরিবার ওকে নিজের হালে ছেড়ে দিয়েছে। স্পষ্ট লিখেছে যে, ২০১৮ সালে একবার ও আলাদা হয়ে গিয়েছিলো এবং ওর বাবাকে বলেছিলো যে ওকে বিদেশে পাঠিয়ে দিতে কিন্তু উনারা সাপোর্ট করে নাই। সেই থেকে ওর মনে একটা ক্ষোভ তাদের নিয়ে, যা থেকে এরপর আর কোনো দিন সে মুখ ফুটে কিছু বলে নাই।”
পোস্টে তিনি আরও লেখেন, যদি তার কিছু হয়ে যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো যেন বিষয়টি তদন্ত করে।
দীর্ঘ পোস্টের শেষে ইকরার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন তিথি। বলেন,“আল্লাহ ওকে ভালো রাখুক। শান্তিতে রাখুক। ওর এই চিরনিদ্রা শান্তির হোক। আর দূর থেকেই রিযিককে এতো দোয়া করুক যাতে রিযিকের জীবনটা সুন্দর হয়।”
ইকরার মৃত্যুকে ঘিরে চলমান মামলা ও পারিবারিক অভিযোগের প্রেক্ষাপটে তিথির এই পোস্ট নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ইফফাত আরা তিথির ফেসবুক পোস্ট:





