অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীকে একইসঙ্গে ‘সরি’ ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
দায়িত্ব নেওয়ার সময় ফারুকীর নিয়োগের সমালোচনা করলেও পরবর্তী সময়ে তার কাজের মূল্যায়নে নিজের অবস্থান বদলের কথা জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৮ আগস্ট) এক ফেসবুক পোস্টে সারজিস আলম লিখেছেন, ‘আজ একজন মানুষকে আমি একইসাথে সরি বলতে চাই এবং ধন্যবাদ জানাতে চাই। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।’
ফারুকীকে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সময় তিনিও সমালোচনা করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন সারজিস। তবে এখন তার দাবি, স্বল্প সময়ের দায়িত্ব পালনের মধ্যেও যেসব উপদেষ্টা তুলনামূলকভাবে সফল ছিলেন, ফারুকী তাদের অন্যতম।
সারজিস লিখেছেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে যখন তাকে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় তখন অনেকের মতো আমিও এই বিষয়টিকে সমালোচনা করেছিলাম। কিন্তু এখন আমি মনে করি—সেই সরকারের যে কয়েকজন উপদেষ্টা স্বল্প সময়ের মধ্যেও তাদের দায়িত্ব পালনে অনেকটাই সফল, তার মধ্যে তিনি একজন।’
শুধু দায়িত্ব পালনকালেই নয়, পরবর্তী সময়েও ফারুকীর ভূমিকার প্রশংসা করেন এনসিপির এই নেতা। তার ভাষ্য, কথা ও কাজের মধ্য দিয়ে ফারুকী যেভাবে জুলাই অভ্যুত্থানকে ধারণ করেছেন, সেটিও প্রশংসাযোগ্য।
ফারুকীর সময়ের বেশ কয়েকটি কাজের মধ্যে দুটি উদ্যোগকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন সারজিস। এর একটি হলো ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ প্রতিষ্ঠা। সারজিসের মতে, এর মাধ্যমে শুধু জুলাই কিংবা ১৬ বছরের স্মৃতি সংরক্ষণ করা হচ্ছে না, বরং জাদুঘরটিকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘কালচারাল স্পেসে’ পরিণত করা হয়েছে।
এ ছাড়া ১৬ বছরের ‘ফ্যাসিবাদ’-এর অডিও-ভিজ্যুয়াল ডকুমেন্টেশন তৈরির উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন তিনি। এসব কনটেন্টে গুম, খুন, লুটপাট, পিলখানা ট্র্যাজেডি, শাপলা ম্যাসাকার, ক্যাম্পাস ভায়োলেন্স ও জুলাই অভ্যুত্থানের মতো বিষয় উঠে এসেছে বলে পোস্টে উল্লেখ করেন সারজিস।
তিনি দাবি করেন, অনলাইনে প্রকাশিত এসব কনটেন্ট এখন পর্যন্ত শুধু প্রধান উপদেষ্টার পেজ থেকেই ১৪ কোটি ৮০ লাখ ভিউ পেয়েছে।
নিজের আগের অবস্থান প্রসঙ্গে সারজিস বলেন, ফারুকী তার কথা ও কাজের মধ্য দিয়ে ‘অনেককে ভুল প্রমাণ করেছেন’। এ কারণেই তাকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন তিনি।
সবশেষে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কাজ ও যোগ্যতার তুলনা টেনে সারজিস লিখেছেন, ‘নিঃসন্দেহে যোগ্যতার মাপকাঠি ও কাজের দিক থেকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে যারা ছিলেন তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম সেরা হয়ে থাকবেন।’





