আমার শরীরে অন্তত ৭০–৮০টি ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে: এনসিপি নেতা সালাউদ্দিনের অভিযোগ

একদিন হাত–পা কাঁপার কারণে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নষ্ট এমআরআই মেশিনে তাঁকে ঢোকানো হয়েছিল উল্লেখ করে তানভীর বলেন, ‘আমি ওটার ভেতরে থাকা অবস্থায় বিকট আওয়াজ হয়ে সেটি বন্ধ হয়ে গেল। আমার কোমর থেকে পা পর্যন্ত প্যারালাইজড হয়ে গেল। আমি ১০–১২ ঘণ্টা অজ্ঞান ছিলাম। পরে দেখি শহীদ জিয়া মেডিকেলের প্রিজন সেলে এবং আমার শরীরে প্রস্রাব-পায়খানা। একজন কোনো রকমে পরিষ্কার করে দিল।’

এরপর উন্নত চিকিৎসার কথা বলে তাঁকে ঢাকায় আনা হয় বলে জানান গাজী সালাউদ্দিন তানভীর। রাখা হয় কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগারে। সেখান থেকে চিকিৎসার জন্য তাঁকে একদিন শাহবাগে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আনা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে ডাক্তার দেখিয়ে জেলে নেওয়ার সময় গাড়িতে হঠাৎ সাদাপোশাকে কয়েকজন লোক উঠে আসে। তারা আমাকে নির্যাতন করে। তাদের মধ্যে একজন আমাকে বলে, ‘‘বসুন্ধরার মালিককে তুইতোকারি করেছিলি, এত বড় সাহস তোর।” বসুন্ধরার মালিক আহমেদ আকবর সোবহান এবং তাঁর ছেলে আনভীরের নাম বলে আমাকে নির্যাতন করা হয়েছে। এই মাফিয়া গোষ্ঠীর হাত এতটাই লম্বা তারা কারাবন্দী একজনকে এভাবে নির্যাতন করতে পারে। এদের কি কোনো বিচার হবে না—জাতির কাছে আমার প্রশ্ন।’ ওই ঘটনার পর কারাগারেও একটি অন্ধকার কক্ষে নিয়ে তাঁকে নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ করেন তানভীর।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, উত্তরাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আবু সাঈদ লিয়ন, কেন্দ্রীয় মিডিয়া উপকমিটির সদস্য ইয়াসির আরাফাত, এনসিপির চিকিৎসক সংগঠন ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব আবদুল আহাদ প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।