আমিও ঠিক কারিনার মতই মরতে বসেছিলাম | চ্যানেল আই অনলাইন

আমিও ঠিক কারিনার মতই মরতে বসেছিলাম | চ্যানেল আই অনলাইন

লিভার-সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে সম্প্রতি মারা গেছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিনোদনসহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনে। তার অকাল মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছেন সবাই। এবার তার মৃত্যুকে ঘিরে একটি পোস্ট করলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা দীপংকর দীপন।

তিনি লিখেছেন, কারিনা কায়সারের মৃত্যু আমার জন্য খুব কষ্টের। না, তার সাথে আমার পরিচয় ছিল না। কিন্তু অদ্ভুত একটা সংযোগ আছে। কারিনা কায়সার যেভাবে মারা গেছেন, ২০০০ সালে আমি ঠিক হুবুহু একইভাবে মরতে বসেছিলাম। আমি তখন খুব চিকন ছিলাম, ২৮ কোমরের প্যান্ট পরতাম। জাহাঙ্গীরনগরে পড়ি, টানা জ্বর থেকে জন্ডিস, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাক্তার না বুঝে তিনবেলা প্যারাসিটামল আর হিসটাসিন খাইয়েছে- জ্বরে অজ্ঞান হয়ে গেলাম- বন্ধুরা ঢাকায় দিদির বাসায় নিয়ে এল। বিলিরুবিন ২০ এর উপরে.. জন্ডিসের চিকিৎসা শুরু হল। আমি প্রি কোমায় চলে গেলাম। দিদি ধানমন্ডির বাংলাদেশে মেডিকেলে নিয়ে গেল। বড় ডাক্তাররা তখন চলে গেছেন। ইমারজেন্সি দেখল- সেখানের ডাক্তার টেস্ট দিয়ে কাল আসতে বলল। দিদি টেস্টের টাকা দিচ্ছে- আমি লিফটের সামনে হুইল চেয়ারে- অচেতন- বার বার হাত দিয়ে স্যালাইন বা এসব ছাড়ানোর চেষ্টা করছি। এমন সময় এক ম্যাজিকাল চিকিৎসক ড. মুজিবুল হক মোল্লা- হসপিটাল থেকে বের হচ্ছিলেন। তিনি দেখলেন, আমাকে কেউ ধরে নেই- কিন্তু আমি বারবার বলছি- আমাকে ছাড়। ডাক্তার এলেন, রিপোর্ট দেখলেন, বললেল পেশেন্ট প্রি কোমায় আছে, দ্রুতই কোমায় চলে যাবেন। আমাকে আই সি ইউতে ভর্তি করানো হলো। সেই রাতেই আমি কোমায় চলে গেলাম। SGPT/ALT লেভেল ৪৮০০ পার হলো। লিভার কাজ করা বন্ধ করলো। আমি ক্লিনিকালি ডেড হয়ে গেলাম। তখন লিভার ট্রান্সপ্লান্ট এর বিষয় ছিল না বোধ হয়। ডাক্তার বললেন- পুরো ইশ্বরের হাতে। আমার পরিবার, আমার দিদি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুরা, সেতাবগঞ্জ ও রংপুরের বন্ধুরা, ঢাকা থিয়েটার সহকর্মীসহ চারপাশের মানুষের অফুরান দোয়ায় ৪ দিনের মাথায় আমি কোমা থেকে ব্যাক করলাম। একটা মিরাকল বলা চলে। সেটাকে আমি ২য় জীবন বলি। সেই জীবন যতটা সম্ভব শুদ্ধ ভাবে আমি কাটানোর চেস্টা করি। আমার যা হয়েছিল বা কারিনার যেটা হলো তাতে একটা বিষয় কমন- আর তার থেকে একটা শিক্ষাও খুব দরকারী। লক্ষ্য রাখতে হবে জন্ডিসের সঙ্গে অজ্ঞান ভাব, ঘুম ঘুম ভাব, আচরণ বদলে যাওয়া, বমি, রক্তপাত, বা SGPT/ALT হাজারের ওপরে গেলে বাসায় অপেক্ষা না করে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে যেতে হবে।

দীর্ঘদিন ধরে লিভার জটিলতায় ভোগার পর গত কয়েকদিন ধরে কারিনার অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। দেশে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। পরে গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাকে চেন্নাই নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা প্রথমে তার ফুসফুসের চিকিৎসা শুরু করেছিলেন। এরপর লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতিও চলছিল।

শুক্রবার ভারতে কারিনার ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার সময় হঠাৎ ওর প্রেশার অনেক নিচে নেমে যায়। এরপর ডাক্তাররা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।