আয়রোজগারে বরকত পেতে কোরআনের অপূর্ব ‘ফর্মুলা’

আয়রোজগারে বরকত পেতে কোরআনের অপূর্ব ‘ফর্মুলা’

আয়রোজগার বৃদ্ধির জন্য কোরআনের ৬ আমল

১. ইস্তিগফার করা: ক্ষমা চাওয়া বরকতের বন্ধ দরজা খোলার চাবি। আল্লাহ সুরা নুহে বলেন, ‘তখন আমি বললাম, তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও, নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর আকাশ থেকে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, তোমাদের ধনসম্পদ ও সন্তান বাড়িয়ে দেবেন এবং তোমাদের জন্য বাগান ও নদী তৈরি করে দেবেন।’ (সুরা নুহ, আয়াত: ১০-১২)

খেয়াল করুন, নুহ (আ.) তাঁর জাতির কাছে কী চাইলেন? শুধু বললেন ইস্তিগফার করো, আল্লাহর কাছে তোমাদের কৃতপাপের জন্য ক্ষমা চাও। এর ফলে কী আসবে? বৃষ্টি, সম্পদ, সন্তান, বাগান, নদী।

‘মিদরার’ মানে প্রচুর বৃষ্টি। ইসলামে বৃষ্টি রিজিকের প্রতীক, কারণ বৃষ্টিতে জমিন সজীব হয়, ফসল হয়, জীবন সঞ্চারিত হয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে বেশি ইস্তিগফার করে আল্লাহ তার সব সংকট থেকে বের হওয়ার পথ করে দেন, তার সব দুশ্চিন্তা দূর করে দেন এবং তাকে এমন জায়গা থেকে রিজিক দেন, যা সে কল্পনাও করেনি।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৫১৮)

২. তাকওয়া: সব কাজে আল্লাহ সচেতনতা হলো হিসাবের বাইরে থেকে রিজিক পাওয়ার পথ। আল্লাহ সুরা তালাকে বলেন, ‘যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য পথ বের করে দেন এবং তাকে এমন জায়গা থেকে রিজিক দেন, যা সে কল্পনাও করেনি। আর যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট।’ (সুরা তালাক, আয়াত: ২-৩)

খেয়াল করুন, এই আয়াতে পরপর তিনটি প্রতিশ্রুতি আছে।

এখানে ‘মাখরাজ’ বলে একটা শব্দ আছে, যার মানে বের হওয়ার পথ। কঠিন বিপদে যখন মনে হবে চারদিকে অন্ধকার, দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, উত্তরণের আর কোনো পথ নেই, তখন আল্লাহই নিজ অনুগ্রহে আপনাকে সেখান থেকে রক্ষা করবেন।

তারপর এমন জায়গা থেকে রিজিক দেবেন, যা সে ভাবেইনি। মানে এমন উৎস থেকে রিজিক আসবে, যা আপনি কখনো কল্পনা করেন নি। আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট। যখন আল্লাহ কারও জন্য যথেষ্ট হন, তখন তার আর চিন্তা কিসের বলুন?

৩. প্রাপ্ত রিজিক থেকে দান করা: যত দেবেন, তত বাড়বে। আল্লাহ সুরা বাকারায় বলেন, ‘যারা আল্লাহর পথে তাদের সম্পদ ব্যয় করে তাদের উপমা হলো একটি বীজের মতো, যা থেকে সাতটি শিষ জন্মায়, প্রতিটি শিষে এক শ দানা। আল্লাহ যাকে চান তার জন্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৬১)

একটি বীজ, সাতটি শিষ, প্রতিটিতে এক শ দানা। তার মানে একটি বীজ থেকে সাত শ দানা। সুবহানাল্লাহ!

এরপর আল্লাহ বলছেন ‘যাকে চান তার জন্য তিনি বহুগুণ বাড়িয়ে দেন’, মানে সাত শও সর্বোচ্চ নয়। সাত লাখ বা সাত কোটি থেকে সাত শ কোটিও হতে পারে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সদকা রিজিক কমায় না, বরং আল্লাহ তার মাধ্যমে সম্পদে বরকত দেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৬৭)

পকেট খালি বলে দান করব না, এই ভাবনা আসলে বরকত কমিয়ে দেয়। কারণ, দান করলে সম্পদ কমে না, বাড়ে। এটা আল্লাহর নিজের কথা।