আ. লীগের পলাতক মন্ত্রীর আড়ৎ দখল করল বিএনপি নেতারা

আ. লীগের পলাতক মন্ত্রীর আড়ৎ দখল করল বিএনপি নেতারা

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় আওয়ামী লীগের পলাতক সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের পল্লীহাট কাঁচাবাজারের (আড়ৎ) অফিস ও শেডসহ প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় গত ১৩ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ লিগ্যাল চন্দন বিশ্বাস।

অভিযুক্তরা হলেন- সাটুরিয়ার ধানকোড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম জুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল লতিফ, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলাম বকুল ও জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জিয়াউদ্দিন কবিরসহ অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জন।

জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া আবেদনে পল্লীহাট কাঁচাবাজারের অফিস ও শেডসহ প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি দখলমুক্ত করে সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

আবেদনে বলা হয়, গোলড়া-সাটুরিয়া সড়কের পাশে কামতা মৌজায় তাদের প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন পল্লীহাট কাঁচাবাজার (আড়ৎ) রয়েছে। ওই বাজারের অফিস ও শেডসহ ভূমি প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব সম্পত্তি।

অভিযোগে বলা হয়, গত ১৪ এপ্রিল রাত ৪টার দিকে মো. রফিকুল ইসলাম জুয়েল, আব্দুল লতিফ, মো. সাইফুল ইসলাম বকুল ও মো. জিয়াউদ্দিন কবিরসহ অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জন ওই পল্লীহাট কাঁচাবাজারের অফিস ও শেড দখল করে নেন। এরপর থেকে তাঁদের তাগাদা দেওয়া হলেও অভিযুক্তরা জায়গাটি ছেড়ে দেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আবেদনকারী চন্দন বিশ্বাস দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে দখল বজায় রাখার কারণে প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। এ অবস্থায় পল্লীহাট কাঁচাবাজারের অফিস, শেডসহ প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ভূমি দখলমুক্ত করে প্রতিষ্ঠানকে দখল বুঝিয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ধানকোড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম জুয়েল বলেন, ওই হাট যুবদল নেতা কবির ভাই সরকারিভাবে ইজারা পেয়েছন। তার কাছ থেকে আমরা ধানকোড়া-সাটুরিয়ার কয়েকজন কিছু শেয়ার নিয়েছি। বিস্তারিত কবির ভাই বলতে পারবেন।

জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জিয়াউদ্দিন কবির বলেন, সাবেক মন্ত্রীর পল্লীহাটের পাশে সরকারি হাট আমাদেরই কিছু লোক আমার নামে টেন্ডারের সিডিউল জমা দিয়েছিল। পরে আমি ইজারা পেয়েছি। সাবেক মন্ত্রীর জমি আমরা ভাড়া নিতে চেয়েছিলাম, কিন্ত তারা ডিড করার পর অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছে। এ কারণে ডিড আটকে আছে। এটা অবৈধ বলা যায়, আমার বৈধও বলা যায়। কারণ আমরা এখনও কোন ভাড়া পরিশোধ করিনি। আমরা ওদের সাথে বসে সমন্বয় করার চেষ্টা করছি। তবে ওরা যদি ভাড়া না দেয় তাহলে আমরা সেটা ছেড়ে দিব।

এদিকে চন্দন বিশ্বাস বলেন, এই জমি ও কাঁচাবাজার সাবেক মন্ত্রী জাহিদ মালেকের পৈত্রিক সম্পত্তি। ওই জমি রফিকুল ইসলাম জুয়েল, আব্দুল লতিফ, সাইফুল ইসলাম বকুল ও জিয়াউদ্দিন কবিরসহ কয়েকজন অবৈধভাবে দখলে রেখেছে। আমরা ভাড়াসংক্রান্ত কোন ডিড করিনি। আমরা ন্যায় বিচার দাবি করছি।

জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, অভিযোগের বিষয়টি এই মুহুর্তে আমার মনে নেই। অফিস টাইমে মনে করিয়ে দিলে খোঁজখবর নিয়ে বলতে পারবো। পরবর্তীতে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এরপর তাঁর সরকারি মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।