কিন্তু বিশেষজ্ঞরা এক বড় বিপদের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন। এসি হয়তো সাময়িকভাবে প্রচণ্ড গরম থেকে দ্রুত স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু এটি চালাতে প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুৎ শক্তি লাগে। আর এই বিদ্যুতের বেশির ভাগই এখনো তৈরি হয় খনিজ তেল বা কয়লার মতো জীবাশ্ম জ্বালানি পুড়িয়ে, যা পৃথিবীকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক রাধিকা খোসলা এ বিষয়টিকে একটি দুষ্টচক্র হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। এসি চালানোর জন্য আমরা যত বেশি জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়াব, বাতাসে দূষণ তত বাড়বে। আর বাতাসে দূষণ বাড়লে বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে। ফলে গরম আরও প্রচণ্ড হবে এবং মানুষ আরও বেশি এসি ব্যবহার করতে বাধ্য হবে। এভাবে প্রকৃতি ও বিজ্ঞানের এই ক্ষতিকর চক্রটি চলতেই থাকবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চরম তাপপ্রবাহের কারণে ইউরোপে এসি নিয়ে মানুষের মানসিকতা বদলে যাচ্ছে এবং এর ব্যবহার পুরোপুরি ঠেকানো যাবে না। তাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো, এই শীতলীকরণ ব্যবস্থার পরিবেশগত ক্ষতি কীভাবে কমানো যায়।
এ জন্য এখনই উন্নত ও শক্তিশালী নীতিমালা তৈরি করা দরকার, যাতে কম বিদ্যুৎ খরচ করা পরিবেশবান্ধব এসি বাজারে আসে। কারণ, আজ বাজারে যে এসিগুলো বিক্রি হচ্ছে, সেগুলো আগামী এক বা দুই দশক ধরে বিদ্যুৎ খরচ ও কার্বন নিঃসরণ করবে। তাই ভবিষ্যৎ পৃথিবীকে বাঁচাতে প্রথমবারেই সঠিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি বেছে নেওয়া জরুরি।




