ইরান যুদ্ধে বাজারে দরবৃদ্ধির শঙ্কা | চ্যানেল আই অনলাইন

ইরান যুদ্ধে বাজারে দরবৃদ্ধির শঙ্কা | চ্যানেল আই অনলাইন

ইরান যুদ্ধে বাজারে দরবৃদ্ধির শঙ্কা | চ্যানেল আই অনলাইন

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তেহরান ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে হামলা করেছে। এতে তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোতে বেড়েছে উদ্বেগ। বন্ধ করা হয়েছে বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম রুট হরমুজ প্রণালি। এর ফলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশসহ বিশ্ববাজারে কী প্রভাব পড়তে পারে, চলুন জেনে নেওয়া যাক।

বাংলাদেশে এমনিতেই গ্যাস সংকটে নাকাল অবস্থা। আমদানি করেও সামাল দেওয়া যাচ্ছে না ঘাটতি। এরপর এলএনজি আমদানি ব্যহত হলে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করতে পারে। দীর্ঘ মেয়াদী চুক্তিতে আনার এলএনজির প্রায় পুরোটাই আসছে হরমুজ প্রণালি হয়ে। এই প্রণালি বন্ধ হওয়ায় বাংলাদেশে নানা খাতে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে জনশক্তি রপ্তানি এবং রেমিট্যান্সেও এর বিরূপ প্রভাব পড়বে।

মধ্যপ্রাচ্যে সংকট তৈরি হলে প্রথমেই তেলের দাম নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়। ইরান বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর একটি। সংঘাত তীব্র হলে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে, তাতে অবধারিতভাবেই তেলের দাম বাড়বে। রোববার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দর ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৩ ডলার, চলতি বছরে যা ইতিমধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। বিভিন্ন বাণিজ্যসূত্রের তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর কয়েকটি বড় তেল কোম্পানি ও শীর্ষ ট্রেডিং হাউস হরমুজ হয়ে অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পরিবহন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।

সংঘাত সীমিত পরিসরে থাকলেও ব্রেন্টের দাম ৮০ ডলার ছুঁতে পারে। গত বছরের জুন মাসে ১২ দিনের ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের সময় তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি সর্বোচ্চ ৮০ ডলার স্পর্শ করেছিল। তবে দীর্ঘ সময়ের জন্য সরবরাহ ব্যাহত হলে দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এতে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ৬ থেকে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশীয় পয়েন্ট যোগ হতে পারে।

এছাড়াও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে সাধারণত আর্থিক বাজারে অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়ে। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি ও প্রযুক্তি খাতে শেয়ার বিক্রির ধুম পড়ায় ইতিমধ্যে ওয়ালস্ট্রেটে সূচকের ওঠানামা দেখা গেছে। এই হামলা গতকাল শনিবার শুরু হওয়ায় এখন পর্যন্ত বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে তার প্রভাব দেখা যায়নি। কেননা শনি ও রোববার পশ্চিমা পৃথিবীতে বাজার বন্ধ থাকে।

ভিআইএক্স ভোলিটিলিটি ইনডেক্স বা অস্থিরতা সূচক এ বছর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেড়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বন্ড বাজারের অস্থিরতার সূচক বেড়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মুদ্রাবাজারও চাপমুক্ত থাকবে না। সংঘাত দীর্ঘ হলে এবং তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে অধিকাংশ মুদ্রার বিপরীতে মার্কিন ডলার শক্তিশালী হতে পারে। তবে জাপানি ইয়েন ও সুইস ফ্রাঁ তুলনামূলকভাবে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে টিকে থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র এখন জ্বালানির নিট রপ্তানিকারক হওয়ায় তেলের দাম বাড়লে তারা কিছুটা সুবিধা পায়।

তবে ইসরায়েলের মুদ্রা শেকেলও অস্থিরতার মুখে পড়তে পারে। অতীতে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার বিভিন্ন পর্যায়ে শেকেল সাময়িকভাবে দুর্বল হলেও দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তবে বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মর্গ্যান চেজ সতর্ক করেছে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এবং বাজারে ঝুঁকির স্থায়ী প্রভাব পড়লে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।

মূল বিষয় হলো, ইরানের সঙ্গে এই সংঘাতে যদি তার আঞ্চলিক মিত্র ও প্রক্সি গোষ্ঠীগুলো জড়িয়ে পড়ে, তাহলে বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে অস্থিরতা ও চাপ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা বাড়বে।