
ওয়াশিংটন, ৭ মে – যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার দাবি তুলেছেন একদল ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য। ইসরায়েলের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের কয়েক দশকের রহস্যময় অস্পষ্টতার নীতি ভাঙার জন্য তারা জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তারা এই স্পর্শকাতর বিষয়টি সামনে আনেন। তাদের মতে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
চিঠিতে স্বাক্ষরকারী ৩০ জন আইনপ্রণেতা উল্লেখ করেছেন যে মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো ধরনের সংঘাতের ভয়াবহতা এবং পারমাণবিক ভারসাম্যের বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। তারা দাবি করেন যে বর্তমান সংঘাতের সময় পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি বা এ নিয়ে প্রশাসনের কাছে কী ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে সে সম্পর্কে তাদের পর্যাপ্ত তথ্য দেওয়া হয়নি।
সরকারিভাবে ইসরায়েলের এই সক্ষমতাকে এড়িয়ে যাওয়ার নীতি এই অঞ্চলে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ প্রচেষ্টাকে প্রায় অসম্ভব করে তুলছে বলে তারা মনে করেন। আইনপ্রণেতারা পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওর কাছে সরাসরি জানতে চেয়েছেন যে ইসরায়েলের কাছে বর্তমানে ঠিক কী পরিমাণ পারমাণবিক অস্ত্র এবং সেগুলো ছোড়ার উপযোগী সরঞ্জাম রয়েছে। চিঠিতে বিশেষভাবে নেগেভ নিউক্লিয়ার রিসার্চ সেন্টারের কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়েছে যা দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের পারমাণবিক কর্মসূচির মূল কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
এছাড়া ইসরায়েল বর্তমানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ করছে কি না এবং করলে তার মাত্রা ঠিক কত তা নিয়ে স্বচ্ছতা দাবি করা হয়েছে। এই দাবির একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো সংঘাতের সীমা নির্ধারণ। আইনপ্রণেতারা জানতে চেয়েছেন যে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েল কি তাদের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনো নির্দিষ্ট শর্ত মার্কিন প্রশাসনের কাছে স্পষ্ট করেছে।
একইসঙ্গে বর্তমান বা অতীতে কোনো যুদ্ধ চলাকালীন ইসরায়েল কখনো পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন বা ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছিল কি না সে বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্যের দাবিও জানানো হয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে ইসরায়েল তাদের পারমাণবিক অস্ত্র সম্পর্কে কখনো সরাসরি স্বীকৃতি দেয়নি। ১৯৬৯ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী গোল্ড মেয়ারের মধ্যে এক গোপন সমঝোতা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। তবে নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভের তথ্যমতে ইসরায়েলের কাছে বর্তমানে অন্তত ৯০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে।
এস এম/ ৭ মে ২০২৬






