ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান – DesheBideshe

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান – DesheBideshe

তেহরান, ১৪ মার্চ – ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে তারা দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে গত ২ মার্চ ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানি জানান যুক্তরাষ্ট্রের মতো না হয়ে ইরান নিজেকে একটি দীর্ঘ যুদ্ধের জন্যই প্রস্তুত করেছে। দেশটির কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিক্রিয়া কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমায় আটকে থাকবে না এবং এই সংঘাত কয়েক মাস বা তারও বেশি সময় ধরে চলতে পারে। গত ৮ মার্চ ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেন তারা কোনো যুদ্ধবিরতি চাইছেন না বরং আক্রমণকারীকে শাস্তি দিতে বদ্ধপরিকর।

তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন যে ইসরায়েলের সঙ্গে দেশটির বর্তমান সংঘাত মূলত অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। অন্যদিকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালায়েনিক জানিয়েছেন শত্রুর ধারণার চেয়েও বহুগুণ বেশি সময় ধরে ইরান আক্রমণাত্মক প্রতিরক্ষা চালিয়ে যেতে সক্ষম। তিনি আরও জানান ইরান তার সব অস্ত্র একসঙ্গে ব্যবহার না করে ধাপে ধাপে ব্যবহার করছে এবং উন্নত সক্ষমতার কিছু অংশ ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করছে। বিশ্লেষকদের মতে ইরান এমন একটি সমরকৌশল গ্রহণ করেছে যেখানে তারা ধারাবাহিকভাবে ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তু এবং ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করছে।

এর প্রধান লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যয়বহুল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোকে সার্বক্ষণিক সক্রিয় রাখতে বাধ্য করা। থাড বা প্যাট্রিয়টের মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো অত্যন্ত আধুনিক হলেও এগুলো দিয়ে ড্রোন বা সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা আর্থিকভাবে ব্যাপক ব্যয়বহুল। পাশাপাশি টানা হামলার কারণে প্রতিপক্ষের মজুত ও লজিস্টিক নেটওয়ার্ক মারাত্মক চাপের মুখে পড়ে। ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্য অনুযায়ী সংঘাতের প্রথম সপ্তাহেই মার্কিন বাহিনী বিপুল পরিমাণ সুনির্দিষ্ট অস্ত্র ব্যবহার করেছে। অতিরিক্ত অস্ত্র ব্যবহারের এই প্রবণতা তাদের সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

তবে ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি তাদের অস্ত্র উৎপাদন সম্পূর্ণরূপে দেশীয় প্রযুক্তিনির্ভর এবং সরবরাহ ব্যবস্থা অত্যন্ত স্থিতিশীল। ফলে সশস্ত্র বাহিনী বর্তমান গতিতেই অন্তত আরও ছয় মাস তীব্র যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে। ১৯৮০ এর দশকে ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধের পর থেকেই ইরান এই অসম সমরকৌশলে বিনিয়োগ শুরু করে। তাদের মূল লক্ষ্য শুধু শত্রুকে সরাসরি পরাজিত করা নয় বরং যেকোনো সামরিক সংঘাতকে প্রতিপক্ষের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও অনিশ্চিত করে তোলা।

এস এম/ ১৪ মার্চ ২০২৬