এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
তারল্য সংকট মোকাবিলায় ইসলামী ব্যাংককে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বিশেষ ঋণ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রোববার সকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত নেয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষিত ইসলামী ব্যাংকের চলতি হিসাবে এ অর্থ জমা করা হয়েছে। ফলে ব্যাংকটির চেক নিষ্পত্তি কার্যক্রম আবারও স্বাভাবিকভাবে চালু হয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে গ্রাহকদের নগদ অর্থ উত্তোলনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিপরীতে আমানত জমার পরিমাণ কম থাকায় তারল্য সংকট তীব্র হয়েছে। তিনি বলেন, এ অবস্থা দীর্ঘায়িত হলে শাখা কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ রাখার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পাঁচ পরিচালকই বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ দেওয়া স্বতন্ত্র পরিচালক। ঈদুল আজহার আগে ২৪ মে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করলে একই দিন রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এরপর থেকেই চেয়ারম্যান অপসারণসহ সাত দফা দাবিতে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে আন্দোলন চলছে। বিষয়টি জাতীয় সংসদেও আলোচনার জন্ম দেয়। এমন প্রেক্ষাপটে গ্রাহকদের মধ্যে আমানত তুলে নেওয়ার প্রবণতা বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকা সহায়তা চেয়েছিল।
রোববার সকালে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা। তারা চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে আগামী মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচিও ঘোষণা করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে শেয়ারবাজার থেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শেয়ার কিনে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয় এস আলম গ্রুপ। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংকটি ওই শিল্পগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণমুক্ত হয়। এরপর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিরা প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনায় যুক্ত রয়েছেন।
বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের ঋণ পোর্টফোলিওর অর্ধেকেরও বেশি খেলাপি বলে জানা গেছে। এর মধ্যে বড় একটি অংশ এস আলম গ্রুপের নামে ও বেনামে নেওয়া ঋণ।





