ইসলামী ব্যাংক নিয়ে উদ্বেগ ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের, দ্রুত সমাধানের তাগিদ | চ্যানেল আই অনলাইন

ইসলামী ব্যাংক নিয়ে উদ্বেগ ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের, দ্রুত সমাধানের তাগিদ | চ্যানেল আই অনলাইন

এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ

ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে চলমান অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)। সংগঠনটির মতে, দ্রুত এ পরিস্থিতির সমাধান হলে তা দেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য ইতিবাচক হবে।

বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে নিয়মিত ব্যাংকার্স সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন এবিবির চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসরুর আরেফিন।

তিনি বলেন, নির্ধারিত আলোচ্যসূচির বাইরে বৈঠকে ইসলামী ব্যাংকের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের সমস্যা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের বিষয় নয়, এর প্রভাব পুরো ব্যাংক খাতেই পড়ছে। এ কারণে ব্যাংকাররা উদ্বিগ্ন।

মাসরুর আরেফিন জানান, গভর্নর বিষয়টিকে শুধু ব্যাংকিং খাতের সংকট হিসেবে নয়, রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবেও দেখছেন। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চলছে।

ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়ে গভর্নরের কঠোর অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করার আহ্বান জানিয়েছেন গভর্নর। একই সঙ্গে ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি)-তে সঠিক ও হালনাগাদ তথ্য দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে ব্যাংক খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। মাসরুর আরেফিন বলেন, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক যৌথভাবে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি নতুন তহবিল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) ঋণ সহায়তায় এ তহবিল ব্যবহার করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচির আওতায় এ অর্থ বিতরণ করা হবে।

রপ্তানি ও আমদানিসংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানে বিলম্ব ও ভুলের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। তিনি বলেন, এসব কারণে জাতীয় হিসাব-নিকাশে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে আমদানিপণ্যের ঘোষিত মূল্য ও প্রকৃত মূল্যের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।

বাজার পরিস্থিতি অস্থিতিশীল থাকায় আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ও অনলাইন উৎস থেকে পণ্যের মূল্য যাচাই করে এলসি খোলা এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এতে অতিমূল্যায়নের কারণে দেশের আর্থিক ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা।

বৈঠকে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।