জন্মশতবর্ষে মহানায়ক উত্তম কুমার

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে উত্তম কুমার শুধু একজন অভিনেতা নন, তিনি একটি যুগের নাম। অভিনয়, ব্যক্তিত্ব ও পর্দায় অসাধারণ উপস্থিতির কারণে যিনি পেয়েছেন ‘মহানায়ক’ উপাধি। দীর্ঘ তিন দশকের ক্যারিয়ারে নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে বাংলা চলচ্চিত্রে নিজের অনন্য অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। জন্মশতবর্ষে ফিরে দেখা যাক উত্তম কুমারের এমন ১০টি সিনেমা, যেগুলো আজও দর্শকের কাছে সমানভাবে স্মরণীয়।
নায়ক (১৯৬৬)
সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় ‘নায়ক’ উত্তম কুমারের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা কাজ। এতে অরিন্দম মুখার্জি নামের জনপ্রিয় এক চলচ্চিত্র তারকার চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। ট্রেনযাত্রার মধ্যে নিজের জীবন, সাফল্য, অনুশোচনা ও তারকাখ্যাতির নানা দিক নিয়ে আত্মসমীক্ষায় ডুবে যায় চরিত্রটি। সূক্ষ্ম অভিনয়ে উত্তম কুমার এখানে নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যান।
সপ্তপদী (১৯৬১)
সুচিত্রা সেনের বিপরীতে উত্তম কুমারের অন্যতম জনপ্রিয় সিনেমা ‘সপ্তপদী’। ধর্মীয় বিভাজনের মধ্যে প্রেম ও আত্মত্যাগের গল্পে কৃষ্ণেন্দু চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। সিনেমার আবেগঘন গল্প, উত্তম-সুচিত্রার রসায়ন এবং ‘এই পথ যদি না শেষ হয়’ গানটি আজও বাঙালির স্মৃতিতে অমলিন।
চিড়িয়াখানা (১৯৬৭)
শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে সত্যজিৎ রায়ের নির্মাণ ‘চিড়িয়াখানা’। এতে গোয়েন্দা ব্যোমকেশ বক্সীর চরিত্রে অভিনয় করেন উত্তম কুমার। তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ, বুদ্ধিমত্তা ও রহস্য উন্মোচনের দক্ষতায় তার অভিনয় সিনেমাটিকে বিশেষ মাত্রা দেয়।
বিচারক (১৯৫৯)
এই সিনেমায় একজন বিচারকের চরিত্রে দেখা যায় উত্তম কুমারকে। পেশাগত দায়িত্বের সঙ্গে নিজের অতীতের বেদনাদায়ক ঘটনার সংঘাত তৈরি হয় চরিত্রটির জীবনে। নৈতিক দ্বন্দ্ব ও মানসিক টানাপোড়েনের চরিত্রে উত্তমের অভিনয় সিনেমাটিকে স্মরণীয় করে রেখেছে।
হারানো সুর (১৯৫৭)
সুচিত্রা সেনের সঙ্গে উত্তম কুমারের আরেকটি জনপ্রিয় সিনেমা ‘হারানো সুর’। দুর্ঘটনার পর স্মৃতিশক্তি হারানো এক ব্যক্তির জীবনের গল্প উঠে এসেছে এতে। প্রেম, স্মৃতি ও বিচ্ছেদের আবেগঘন গল্পে উত্তম কুমারের অভিনয় দর্শকের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
দেওয়া-নেওয়া (১৯৬৩)
রোমান্টিক কমেডি ‘দেওয়া-নেওয়া’-তে ভিন্নভাবে হাজির হন উত্তম কুমার। ধনী পরিবারের সন্তান হয়েও নিজের পরিচয় গোপন করে দরিদ্র গায়ক সেজে সত্যিকারের ভালোবাসার সন্ধানে বের হন তিনি। হাস্যরস ও রোমান্টিকতায় ভরা সিনেমাটিতে তার স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় আজও উপভোগ্য।
থানা থেকে আসছি (১৯৬৫)
রহস্য ও সাসপেন্সনির্ভর ‘থানা থেকে আসছি’-তে পুলিশ পরিদর্শকের চরিত্রে অভিনয় করেন উত্তম কুমার। এক নারীর রহস্যজনক মৃত্যুর তদন্ত করতে গিয়ে নানা প্রশ্ন ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে সত্যের কাছে পৌঁছান তিনি। সংযত অথচ দৃঢ় অভিনয় ছিল সিনেমাটির অন্যতম আকর্ষণ।
অগ্নিপরীক্ষা (১৯৫৪)
উত্তম কুমারের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিনেমা ‘অগ্নিপরীক্ষা’। সুচিত্রা সেনের সঙ্গে তার জুটি এই সিনেমার মাধ্যমেই জনপ্রিয়তার নতুন মাত্রা পায়। প্রেম ও সামাজিক বাধার টানাপোড়েনের গল্পে উত্তমের অভিনয় দর্শকের নজর কাড়ে।
সপ্তমী (১৯৬৩)
‘সপ্তমী’-তে এক শিল্পীর চরিত্রে অভিনয় করেন উত্তম কুমার। অন্ধ এক তরুণীর প্রেমে পড়া এই মানুষটি ভালোবাসার জন্য নিজের ক্যারিয়ার ও পরিচয় বিসর্জন দিতেও প্রস্তুত। সংবেদনশীল চরিত্রে উত্তমের অভিনয় তাঁর বহুমাত্রিক অভিনয়ক্ষমতার পরিচয় দেয়।
জতুগৃহ (১৯৬৪)
তপন সিংহ পরিচালিত ‘জতুগৃহ’ উত্তম কুমারের ক্যারিয়ারের অন্যতম ব্যতিক্রমী সিনেমা। বিচ্ছিন্ন এক দম্পতির বহু বছর পর পুনর্মিলন এবং অতীতের সম্পর্কের হিসাব-নিকাশকে ঘিরে এগিয়েছে গল্প। ব্যর্থ দাম্পত্য, অনুশোচনা ও হারানো সম্পর্কের অনুভূতি অত্যন্ত সংযত অভিনয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন উত্তম কুমার।
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
