উত্তরাধিকার সম্পদ: ইসলাম যেভাবে নারীর ন্যায্যতা নিশ্চিত করে

উত্তরাধিকার সম্পদ: ইসলাম যেভাবে নারীর ন্যায্যতা নিশ্চিত করে

কন্যার উত্তরাধিকার: মহান আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে এ নির্দেশ দিচ্ছেন যে একজন পুত্রের অংশ দুজন কন্যার অংশের সমান।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ১১)

একই আয়াতে আরও বলা হয়েছে, একজন কন্যা থাকলে তিনি অর্ধেক সম্পদের অধিকারী হবেন। আর দুই বা ততোধিক কন্যা থাকলে তারা সম্মিলিতভাবে দুই-তৃতীয়াংশ সম্পদ লাভ করবেন। (সুরা নিসা, আয়াত: ১১)

মায়ের উত্তরাধিকার: মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকলে মা সম্পদের এক-ষষ্ঠাংশ পাবেন। আর সন্তান না থাকলে এবং মৃত ব্যক্তির একাধিক ভাই-বোনও না থাকলে মা এক-তৃতীয়াংশের অধিকারী হবেন। তবে একাধিক ভাই-বোন থাকলে তার অংশ এক-ষষ্ঠাংশ হবে। (সুরা নিসা, আয়াত: ১১)

স্ত্রীর উত্তরাধিকার: যদি স্বামীর সন্তান না থাকে, তবে স্ত্রী এক-চতুর্থাংশ সম্পদের অধিকারী হবেন। আর সন্তান থাকলে তিনি এক-অষ্টমাংশ পাবেন। (সুরা নিসা, আয়াত: ১২)

বোনের উত্তরাধিকার: মৃত ব্যক্তি যদি সন্তান এবং পিতা (বা দাদা) না রেখে মারা যান এবং তার কেবল একজন বোন থাকে, তাহলে তিনি মৃতের সম্পদের অর্ধেক পাবেন।

শুধু দুই বা ততোধিক বোন থাকলে এবং তাদের সঙ্গে কোনো ভাই না থাকলে তারা সম্মিলিতভাবে দুই-তৃতীয়াংশ সম্পদের অধিকারী হবেন। আর ভাই-বোন উভয়ই উত্তরাধিকারী হলে একজন ভাইয়ের অংশ হবে দুই বোনের অংশের সমান। (সুরা নিসা, আয়াত: ১৭৬)

অর্থাৎ একজন নারী কন্যা, স্ত্রী, মা কিংবা বোন—জীবনের প্রতিটি পরিচয়েই কোরআন তার ন্যায্য উত্তরাধিকার নিশ্চিত করেছে।

নারী কি শুধু পুরুষের অর্ধেক পায়

সমাজে বহুল প্রচলিত একটি ভুল ধারণা হলো, ইসলামে নারী সব সময় পুরুষের অর্ধেক সম্পত্তি পায়। বাস্তবে এই ধারণা সঠিক নয়। কোরআনের উত্তরাধিকার আইন গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কোথাও নারী পুরুষের অর্ধেক পান, আবার কোথাও সমান অংশও পান।

যে ক্ষেত্রে ছেলে ও মেয়ে একই সঙ্গে উত্তরাধিকারী হয়, সেখানে একজন ছেলের অংশ দুজন মেয়ের অংশের সমান নির্ধারণ করা হয়েছে। এর পেছনে ইসলামি অর্থনৈতিক দায়িত্বের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। 

ইসলামে পরিবারের ভরণপোষণ, স্ত্রী-সন্তানের ব্যয়, দেনমোহর প্রদান এবং বহু আর্থিক দায়িত্ব পুরুষের ওপর অর্পিত। পক্ষান্তরে, নারীর ব্যক্তিগত সম্পদের ব্যয়ভার তার ওপর বাধ্যতামূলক নয়। ফলে উত্তরাধিকারের অংশ নির্ধারণে এই সামগ্রিক দায়িত্ব বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

আবার এমন কিছু ক্ষেত্রও রয়েছে, যেখানে নারী ও পুরুষ সমান অংশ পান। যেমন মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকলে মা ও বাবা উভয়েই এক-ষষ্ঠাংশ করে পান। এটি প্রমাণ করে যে সব ক্ষেত্রে নারীর অংশ পুরুষের চেয়ে কম নয়।

তাই ‘নারী শুধু অর্ধেক পায়’—এ বক্তব্য কোরআনের সামগ্রিক উত্তরাধিকার আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

মূল কথা হলো, নারী-পুরুষের উত্তরাধিকার সম্পদের অধিকার ইসলাম মর্যাদার ভিত্তিতে নয়, বরং পারিবারিক দায়িত্ব এবং আর্থিক দায়বদ্ধতার ভিত্তিতে নির্ধারণ করেছে। তাই উত্তরাধিকার আইনের কোনো একটি দিক বিচ্ছিন্নভাবে তুলে ধরে ইসলামকে অভিযুক্ত করা সঠিক নয়। বরং পুরো ব্যবস্থাটি একসঙ্গে বিচার করলে এর ন্যায়বিচার ও ভারসাম্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

নারীর উত্তরাধিকার আত্মসাৎ ভয়াবহ পাপ

অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করা মহাপাপ (কবিরা গুনাহ)। আর যদি সেই সম্পদ এমন কারও হয়, যার অধিকার স্বয়ং আল্লাহ কোরআনে নির্ধারণ করে দিয়েছেন, তবে অপরাধের ভয়াবহতা আরও বেড়ে যায়।

উত্তরাধিকার বণ্টনে কারচুপি, বোন বা কন্যাকে কৌশলে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা, জোরপূর্বক লিখিত ছাড়পত্র নেওয়া কিংবা বিভিন্ন অজুহাতে তাদের প্রাপ্য অংশ আটকে রাখা, এসব কেবল সামাজিক অন্যায় নয়, আল্লাহর বিধানের প্রকাশ্য লঙ্ঘন।