উষ্ণ হচ্ছে বরিশাল, সংকট বাড়াচ্ছে জনজীবনে

উষ্ণ হচ্ছে বরিশাল, সংকট বাড়াচ্ছে জনজীবনে

গবেষণায় বায়ুর গতিতে সামান্য বৃদ্ধি এবং আপেক্ষিক আর্দ্রতায় ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পাওয়া গেছে। বছরে গড়ে আর্দ্রতা বেড়েছে শূন্য দশমিক ৩৪ শতাংশ হারে। গবেষকদের মতে, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা একসঙ্গে বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে তাপপ্রবাহ আরও অস্বস্তিকর ও স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কা-লিঙ্কন বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশগত ভূপদার্থবিদ্যায় পিএইচডি গবেষণারত আবদুল্লাহ সালমান প্রথম আলোকে বলেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় মাটির আর্দ্রতা হ্রাস পাচ্ছে, সেচনির্ভরতা ও উপকূলীয় লবণাক্ততা বাড়ছে। জলাবদ্ধতা, লবণাক্ততা এবং অনিয়মিত বৃষ্টিপাত মিলিয়ে জনস্বাস্থ্যে জটিল ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তাঁর মতে, বরিশাল দ্রুত উষ্ণ ও অধিক আর্দ্র জলবায়ুর দিকে এগোচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা, নগরে সবুজায়ন ও জলাশয় সংরক্ষণ এবং জলবায়ু-সহনশীল কৃষিব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।


গরম বাড়িয়েছে খরচ, কমিয়েছে আয়

তাপমাত্রা পরিবর্তনের প্রভাব এখন বরিশাল নগরের মানুষের দৈনন্দিন জীবনে স্পষ্ট। গ্রীষ্মে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। বর্ষাকালেও বৃষ্টিপাত অনিয়মিত, আবার বৃষ্টি হলেও তাপমাত্রা খুব একটা কমছে না। এতে শুধু অস্বস্তিই বাড়ছে না, বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয়ও।

এখন গ্রীষ্ম-বর্ষা সব সময়ই ঘরে বৈদ্যুতিক পাখা চালাতে হয় বলে জানান নগরের রূপাতলী এলাকার বাসিন্দা আবদুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, ‘২৪ ঘণ্টাই ফ্যান চালিয়ে রাখতে হয়। তবু স্বস্তি পাওয়া যায় না। যেভাবে গরম বাড়ছে, তাতে এসি ছাড়া টেকা কঠিন।’

বিশ্বব্যাংকের ২০২৪ সালের ‘অসহনীয় জীবন: তাপের প্রভাব, স্বাস্থ্য ও বাংলাদেশের অর্থনীতি’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে তাপপ্রবাহের কারণে বাংলাদেশে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ কর্মদিবস নষ্ট হয়েছে। এতে দেশের অর্থনীতির ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১৭৮ কোটি মার্কিন ডলার (২২ হাজার কোটি টাকার বেশি), যা জিডিপির প্রায় শূন্য দশমিক ৪ শতাংশের সমান।

তাপমাত্রা বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষের ওপর। নগরের সাগরদি এলাকার রিকশাচালক আবুল কালাম (৪৮) জানান, আগে সকালে রিকশা নিয়ে নেমে রাত ১১টা পর্যন্ত চালাতে পারতেন। কিন্তু এখন আর পারেন না। গরমের কারণে হাঁপিয়ে ওঠেন। এতে তাঁর আয় অনেক কমে গেছে।