এআই কি কাজের বোঝা কমাল না বাড়াল, গবেষণায় উঠে এল যে চিত্র

এআই কি কাজের বোঝা কমাল না বাড়াল, গবেষণায় উঠে এল যে চিত্র

‘আরও কাজ সম্ভব’—এই মানসিকতাই বাড়াচ্ছে চাপ—

গবেষণায় একটি বিশেষ দিকের কথা বলা হয়েছে। আগে যেসব কঠিন কাজ কর্মীরা সহকর্মীদের কাছে পাঠিয়ে দিতেন কিংবা ভবিষ্যতের জন্য ফেলে রাখতেন, এখন এআইয়ের কারণে সেগুলো তাঁরা নিজেরাই করতে শুরু করেছেন। একসময় যা ছিল দলগত কাজ, এখন তা হয়ে দাঁড়িয়েছে একক পরিশ্রমের বিষয়। কাজ দ্রুত শেষ হওয়ায় কর্মীরা বিশ্রামের বদলে নতুন নতুন কাজ হাতে নিচ্ছেন। তাদের মনে হচ্ছে, এআই যেহেতু পাশে আছে, তাই আরও অনেক কাজ করা সম্ভব। এই বাড়তি আত্মবিশ্বাসই মূলত কর্মীদের ওপর কাজের পাহাড় তৈরি করছে। ফলে দেখা যাচ্ছে, প্রযুক্তির সহায়তায় সময় বাঁচলেও সেই বেঁচে যাওয়া সময়টুকু ব্যক্তিগত কাজে ব্যয় না করে কর্মীরা আবারও অফিসের কাজেই খরচ করছেন।

কর্মসংস্কৃতি ও বদলে যাওয়া প্রত্যাশা—

শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল, এআই মানুষের কাজের চাপ কমিয়ে ভারসাম্য আনবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে প্রযুক্তি যত সহজ হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানের প্রত্যাশা ততটাই বাড়ছে। নিয়োগকর্তারা এখন চান একজন কর্মী যেন এআই ব্যবহার করে কয়েক গুণ বেশি কাজ করেন। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতের কর্মীরা এখন এআইয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে কর্মীরা অন্য সহকর্মীর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দিয়েছেন। এটি শুনতে ইতিবাচক মনে হলেও আসলে এতে এককভাবে কাজের চাপ বহু গুণ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই কেবল একটি যন্ত্রমাত্র। এটি কাজের পরিমাণ কমাবে কি না, তা নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানের নীতি এবং কাজের সংস্কৃতির ওপর। প্রযুক্তি যখন কাজের গতি বাড়িয়ে দেয়, তখন মানুষ অনেক সময় নিজের অজান্তেই বিশ্রামের কথা ভুলে যায়।