দেশে একটি হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী বিভিন্নভাবে সমাজকে অস্থির করে রাখতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, তারা ছোটোখাটো ইস্যু নিয়ে গোলযোগ সৃষ্টি করতে চাইছে। এদের থেকে সাবধান থাকতে হবে। আমরা কেউ চাই না দেশে আর কোনো গোলযোগ হোক।
শুক্রবার (৮ এপ্রিল) নওগাঁর পতিসরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এবং নওগাঁ জেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশিদ।
মির্জা ফখরুল বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্ব মানবতার কবি। তার কবিতা-সাহিত্যর মধ্যদিয়ে জীবন সাজাতে হবে। রবীন্দ্রনাথের জীবন আদর্শ সবাইকে অনুসরণ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই পতিসরের কৃষকদের উন্নয়নের জন্য কৃষি ব্যাংকের কার্যক্রম চালু করেছিলেন এবং আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার ধারণা দিয়েছিলেন। কবির সেই চিন্তাকে ধারণ করেই বর্তমান সরকার কৃষি ও কৃষকদের উন্নয়নে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, জাতীয় সংসদের হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এবং সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। স্বাগত বক্তব্য দেন নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
এ সময় নওগাঁর বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও রবীন্দ্র অনুরাগীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হারুন অর রশিদ।
সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ছিল সাংস্কৃতিক আয়োজন। এতে নওগাঁ জেলা শিল্পকলা একাডেমি, রানীনগর উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি ও আত্রাই উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন এবং কবিতা আবৃত্তি করেন।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
বিশ্বকবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে পতিসর ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে সাধারণ মানুষ, আমন্ত্রিত অতিথি, সরকারি কর্মকর্তা ও রবীন্দ্রপ্রেমীরা পতিসর কাচারিবাড়ি প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেবেন্দ্র মঞ্চের সামনের মাঠ দর্শনার্থীদের ভিড়ে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।




