
ঢাকা, ০৩ মে – বাংলাদেশ পুলিশের উচ্চপর্যায়ে বড় ধরনের প্রশাসনিক পরিবর্তন এনেছে সরকার। একযোগে ১৬ জন ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) এবং একজন অতিরিক্ত ডিআইজিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে পুলিশ প্রশাসনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও বিশ্লেষণ।
রোববার (৩ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এতে স্বাক্ষর করেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরী।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ও দপ্তরে দায়িত্ব পালনরত শীর্ষ পর্যায়ের এসব কর্মকর্তা বাধ্যতামূলকভাবে অবসরে পাঠানো হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন— এন্টি টেরোরিজম ইউনিটের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ, হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ ও মো. রফিকুল হাসান গণি ও রখফার সুলতানা খানম, সিআইডির ডিআইজি মো. হাবিবুর রহমান ও মো. মজিদ আলী, পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি সালেহ মোহাম্মদ তানভীর ও কাজী জিয়া উদ্দিন, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের পরিচালক মো. হারুন-অর-রশীদ, পুলিশ স্টাফ কলেজের ডিআইজি এস এম আক্তারুজ্জামান, বিভিন্ন পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (পিটিসি) কমান্ড্যান্ট ও কর্মকর্তারা, ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ পুলিশ এবং রেলওয়ে পুলিশের একাধিক ডিআইজি ও এসপি পর্যায়ের কর্মকর্তা
এই সিদ্ধান্তে একসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটগুলোর শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ (ধারা ৪৫) অনুযায়ী জনস্বার্থে তাদের অবসর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী এসব কর্মকর্তারা তাদের প্রাপ্য অবসর সুবিধা পাবেন।
সরকারি ব্যাখ্যায় বিষয়টিকে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করা হলেও কোনো নির্দিষ্ট কারণ বা শৃঙ্খলাভিত্তিক অভিযোগ প্রকাশ করা হয়নি।
উল্লেখ্য, এর মাত্র কয়েক দিন আগে ২২ এপ্রিল—একযোগে পুলিশের ১৩ জন ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের বড় একটি অংশকে অবসরে পাঠানোর ঘটনা প্রশাসনিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এনএন/ ০৩ মে ২০২৬






