
ঢাকা, ৮ মে – জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং স্থানীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এখন থেকে সংসদ সদস্যদের প্রতিশ্রুত কর্মসূচিগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় এবং কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সরাসরি তদারকি করবে। এজন্য একটি শক্তিশালী ‘সেল’ গঠন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই সেলের নেতৃত্বে থাকছেন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা। সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১।
অন্যান্য সদস্যরা হলেন- প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২, সংশ্লিষ্ট পরিচালক (মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ভিত্তিক), প্রধানমন্ত্রীর অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার-১ এবং প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা।
এমপিদের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে এই সেল মূলত পাঁচটি প্রধান কাজ সম্পন্ন করবে:
১. তথ্যভাণ্ডার তৈরি: সংসদ সদস্যদের প্রত্যাশিত কর্মসূচির চাহিদা গ্রহণ, সংকলন এবং একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার সংরক্ষণ করা।
২. যাচাই-বাছাই: প্রাপ্ত কর্মসূচিগুলোর জনস্বার্থ ও গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রাথমিক সম্ভাব্যতা যাচাই এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সুপারিশ পাঠানো।
৩. নিবিড় সমন্বয়: প্রকল্পগুলো মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সাথে কার্যকর সমন্বয় সাধন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান।
৪. তদারকি: গৃহীত প্রকল্পগুলোর কাজের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা।
৫. রিপোর্টিং: সেলের সার্বিক কার্যক্রম ও প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে সময় সময় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সেলের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কারিগরিভাবে শক্তিশালী করতে প্রয়োজনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগ থেকে উপযুক্ত সংখ্যক দক্ষ জনবল বা প্রতিনিধি সংযুক্ত করা যাবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সেল গঠনের ফলে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সংসদ সদস্যদের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কাটিয়ে দ্রুত আলোর মুখ দেখবে। একইসাথে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হওয়ায় প্রকল্পের মান উন্নত হবে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ সহজতর হবে।
এনএন/ ৮ মে ২০২৬






