যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, তেহরান ততই ভয় ও ক্ষোভের আবহে ছেয়ে যাচ্ছে। মানুষ জানে না, এ সংঘাত আর কত দিন চলবে। অনেকেই বলছেন, তাঁরা আর বিশ্বাস করেন না যে এতে কোনো পক্ষের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জিত হবে। তবে তাঁদের সবচেয়ে বেশি যা ভাবিয়ে তুলছে, তা হলো, পরিস্থিতি আরও কতটা খারাপ হতে পারে।
মিনা জানান, তিনি মাঝেমধ্যেই নিজেকে এমন কিছু ভাবতে দেখেন, যা আগে কখনোই তাঁর কল্পনায় আসেনি। ‘হয়তো আমার এটা বলা উচিত নয়। কিন্তু মাঝেমধ্যে আমার নিজেকে ভাগ্যবান মনে হয় যে আমার বাড়িতে অন্তত আঘাত হয়নি।’ অন্তত কর্মস্থল তো আবার নতুন করে গড়ে তোলা যায়। দীর্ঘশ্বাস ফেলে মিনা যোগ করেন, ‘আমি আমার বসের জন্য চিন্তিত। আমি সবার জন্যই উদ্বিগ্ন। কিন্তু এই মুহূর্তে, আমি কেবল একটি ছোট আশাকেই আঁকড়ে ধরে আছি। এ যুদ্ধ যেন দ্রুত শেষ হয়।’
অনেক ইরানির কাছে যুদ্ধ এখন আর রাজনীতি বা কৌশলের বিষয় নয়। এটি এখন স্রেফ টিকে থাকার লড়াই।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও তরুণ উদ্যোক্তারা বলছেন, আর্থিকভাবে, মানসিকভাবে ও মনস্তাত্ত্বিকভাবে তাঁদের এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মতো অবস্থা। তাঁরা জয় বা পরাজয়ের কথা বলছেন না, বরং বলেন কেবল হারানোর কথা। আয়ের ক্ষতি, স্থিতিশীলতার ক্ষতি আর সেই ভবিষ্যতের ক্ষতি, যা তাঁরা গড়ে তুলছিলেন বলে ভেবেছিলেন। সবকিছুর ঊর্ধ্বে, এক গভীরতর উপলব্ধি এখন তাঁদের যে তাঁরা এমন কিছুর ভেতর আটকে গেছেন, যা তাঁদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
‘আমরা আটকা পড়ে গেছি,’ বললেন নাগমেহ, শান্ত স্বরে; সঙ্গে যোগ করলেন, ‘এ যুদ্ধ আমরা চাইনি, অথচ আমাদের তার মধ্যেই থাকতে হচ্ছে।’




