৪৮তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে রাশিয়ার মস্কোতে আছেন অভিনেত্রী আশনা হাবীব ভাবনা। আসিফ ইসলামের ‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’, সিনেমার প্রদর্শনী হবে ১৮ এপ্রিল। যেখানে নির্মাতাসহ অভিনয়শিল্পী হিসেবে ভাবনাও গেছেন। মস্কো থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে ভাবনার সঙ্গে কথা হয় বুধবার মধ্যরাতে, চ্যানেল আই অনলাইন পাঠকদের জন্য থাকলো কথার কিছু অংশ:
মস্কো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ৪৮তম আসরে আপনার সিনেমা, কীভাবে দেখছেন?
আমার কাছে তো এটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু আমি অভিনয় করেছি এটা আমার বাড়তি পাওনা, তবে বাংলাদেশী হিসেবে আমাদের যেকোনো সিনেমা এখানে সিলেক্টেড হওয়া আমাদের সবার জন্য অনেক গর্বের। তাছাড়া এই কাজটা আমার কাছে একটু বেশি স্পেশাল। কারণ, দেশের বাইরে আমার অভিনীত প্রথম কোন সিনেমা প্রিমিয়ার হচ্ছে।
এই ফেস্টিভ্যালে আপনার সিনেমা যাচ্ছে, প্রথমে শুনে কেমন লেগেছি?
যেকোনো গুড নিউজ পেলে আমি খুব বেশি ওয়াও রিয়েক্ট করিনা। আমার এক্সপ্রেশন সেটেল্ড থাকে। মানুষ হিসেবে আমি এমন। যখন এই সিনেমার শুটিং করছিলাম, তখন অ্যাওয়ার্ড বা ফেস্টিভ্যালে যাওয়ার জন্য করিনি। সবসময় চেষ্টা করি যে চরিত্রটা আমি করছি সেটা কীভাবে হয়ে ওঠা যায়। অভিনেতা আমি ব্যক্তি ভাবনার মধ্যে কখনোই চরিত্রকে আটকে রাখি না।
এই সিনেমার মাধ্যমে কোন ধরনের দর্শকদের কানেক্ট করতে চান?
আমাদের সিনেমার প্রথম প্রিমিয়ারই হচ্ছে মস্কো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে। এখানে বিশ্বের নামকরা ফিল্ম ক্রিটিকস, রাইটার, প্রডিউসার্স, ডিরেক্টরদের দর্শক হিসেবে শুরুতে তাদের পাচ্ছি। বাংলাদেশের একটি সিনেমা ‘আর্টকোর’ সেকশনে নির্বাচিত হয়েছে, এটা খুবই প্রেস্টিজিয়াস এবং ইম্পোর্টেন্ট! তবে আমি চাই, দেশের দর্শকরাও যেন সিনেমাটা খুব দ্রুত দেখতে পান।
বাংলাদেশের সিনেমাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে কী কী চ্যালেঞ্জ দেখেন?
কানে গিয়ে দেখেছি ইন্ডিয়ান ফিল্মের প্যাভিলিয়ন থাকে। কিন্তু আমাদের সেই সুযোগ সুবিধা থাকে না। এই ধরনের ফেস্টিভ্যালে যেতে হলে সিনেমা জমা দেয়া থেকে যাতায়াত সবকিছু নিজেদের ম্যানেজ করতে হয়। অন্যান্য দেশের মতো আমাদের বাজটে (টাকা-পয়সা) থাকেনা। আমরা যারা আর্ট চর্চা করি নিজেদের তাগিদে করি। অনেকে এসবে হেল্প পায়। কিন্তু আমি ক্যারিয়ারে শুরু থেকে কখনও কোনো গ্যাং বা সার্কেল মেইনটেইন করিনি। আমি সবসময়ই একা। এভাবেই আমি যাত্রা শুরু করে চলছি। তাই অন্যদের মতো আমার জার্নিটা স্মুথ না। আমি এটা এনজয় করি। আমি মনে করি, শিল্পীর পথ সবসময় সোজা থাকবে না, সোজা পথে প্রকৃত শিল্পী হওয়া কঠিন। তবে আমাদের সরকার যদি এসবে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করতো খুবই ভালো হতো। কিন্তু কীভাবে সম্ভব জানি না। আমি যদি কখনও ফিল্ম প্রডিউস করি অবশ্যই সরকারের সাথে কানেক্ট হয়ে করবো। আমি মনে করি, যেখানে বাংলাদেশের সুনাম আসছে সেখানে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা উচিত। আমি এখানে শুধুমাত্র শিল্পী। তাই চাইলেই কিছু করতে পারি না।

আপনাদের সিনেমাটি কী নিয়ে?
আমাদের সিনেমাটা বিলীন হতে যাওয়া যাত্রাপালা নিয়ে। এই সিনেমায় আমরা আমাদের শিল্পকে রি-প্রেজেন্ট করছি। অবশ্যই আমরা জিতলে বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় পাওয়া হবে।
ফেস্টিভ্যালে এটেন্ড করতে স্পেশাল ড্রেস রেখেছেন?
অবশ্যই বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ওপেনিং সেরেমনি! সেখানে অফিশিয়ালি রেড কার্পেটে হাঁটবো। যখনই দেশের বাইরে এই ধরনের ফেস্টিভ্যালে যাই নিজেদের কালচারকে রিপ্রেজেন্ট করি। তখন বিদেশের ব্র্যান্ডের পোশাক পরি না। এবার আমি বেনারসিকে ফোকাস করেছি।

দেশের মানুষের জন্য কোনো বার্তা দিতে চান?
দেশের মানুষ যেন দোয়া করে আমাদের সিনেমা যেন জিতে যায়। দর্শকদের সবসময় বলি, তারা আমাকে চায় বলে আমি কাস্ট হই। ইন্ডাস্ট্রিতে আমি এখনও প্রাসঙ্গিক। এজন্য তাদের জন্য আমার ভালোবাসা সবসময়। আমার পছন্দের নির্মাতা পিটার ব্রুকের একটা কথা সবসময় মানি, অডিয়েন্স ইজ অলয়েজ রাইট। এটা আমি সবসময় বিশ্বাস করি।






