বনি ইসরাইলদের উদ্দেশ করে আরও স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ‘তোমরা আমার অঙ্গীকার পূর্ণ করো, তাহলে আমি তোমাদের অঙ্গীকার পূর্ণ করব।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ৪০)
অর্থাৎ প্রতিশ্রুতি রক্ষা কোনো একতরফা নৈতিক উপদেশ নয়। বরং এটা এমন একটা নীতি, যা স্বয়ং আল্লাহও তাঁর সৃষ্টির সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করেন। মানুষে-মানুষে বা রাষ্ট্রে-রাষ্ট্রে যখন এই ওয়াদা ভাঙে, তখন সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়, তার শিকড় এই মৌলিক নীতিরই লঙ্ঘনে।
যে তিনটি লক্ষণ মোনাফেক চিনিয়ে দেয়
প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকে ইসলাম নেহাত একটা ভুল হিসেবে দেখে না, এটাকে রাখা হয়েছে মোনাফেকির লক্ষণের তালিকায়। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘মোনাফেকের আলামত তিনটি—কথা বললে মিথ্যা বলে, ওয়াদা করলে ভঙ্গ করে, আমানত রাখা হলে খেয়ানত করে।’ (সহিহ বুখারি: ৩৩; সহিহ মুসলিম: ৫৯)
তিনটি লক্ষণের মধ্যে ওয়াদাভঙ্গ ঠিক মাঝখানে বসানো, যেন বোঝানো হচ্ছে, এটা প্রান্তিক কোনো দোষ নয়, বরং চরিত্রের কেন্দ্রীয় একটা পরীক্ষা।
শাস্তিটাও এখানে হালকা নয়। কোরআনে বলা হয়েছে, যারা প্রতিশ্রুতি ও কসম তুচ্ছমূল্যে বিক্রি করে দেয়, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সঙ্গে কথাও বলবেন না, তাকাবেনও না, পবিত্রও করবেন না। তাদের জন্য থাকবে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। (সুরা আলে–ইমরান, আয়াত: ৭৭)
নবীজি (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলিমের সম্পদ আত্মসাতের জন্য মিথ্যা কসমকারী আল্লাহর সাক্ষাৎ পাবে এমন অবস্থায়, যখন আল্লাহ তার ওপর রাগান্বিত থাকবেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৬৬৯)




