
দেশে ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণ ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে আরও পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিক অনুমোদন বা লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সাম্প্রতিক এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে—ব্র্যাক ব্যাংকের মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) প্রতিষ্ঠান বিকাশের বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের যৌথ অংশীদারত্বে বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক, মোবাইল ফোন অপারেটর রবি আজিয়াটার মূল প্রতিষ্ঠান আজিয়াটা লিমিটেড লিমিটেডের ‘বুস্ট ডিজিটাল ব্যাংক’, বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান ভিওন ও স্কয়ার গ্রুপের যৌথ উদ্যোগ ‘নোভা ডিজিটাল ব্যাংক’, ভুটানের ডিকে ব্যাংকের ‘ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান’ এবং উদ্যোক্তা হাবিবুল্লাহ এন করিমের নেতৃত্বাধীন ‘কড়ি ডিজিটাল ব্যাংক’।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালার আলোকে যাচাই-বাছাই শেষে পরিচালনা পর্ষদ এই পাঁচ প্রস্তাবকে নীতিগতভাবে চূড়ান্ত পর্যায়ের কার্যক্রমের জন্য মনোনীত করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো পর্যায়ক্রমে লেটার অব ইনটেন্ট পাওয়ার পর নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে চূড়ান্ত লাইসেন্স ও কার্যক্রম শুরুর অনুমতি পাবে।
ব্যানংকের শাখা ছাড়া সম্পূর্ণ প্রযুক্তি-নির্ভর ডিজিটাল ব্যাংক চালুর এই পদক্ষেপ আর্থিক খাতে লেনদেনের খরচ কমাতে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়।
প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়া চারটি ব্যাংক হলো-ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান, যার উদ্যোক্তা ভুটানের ডিকে ব্যাংক; বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক, যার উদ্যোক্তা বিকাশের শেয়ারধারীরা; নোভা ডিজিটাল ব্যাংক, যার উদ্যোক্তা বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান ভিওন ও স্কয়ার গ্রুপ এবং বুস্ট ডিজিটাল ব্যাংক, যার উদ্যোক্তা রবির মূল প্রতিষ্ঠান আজিয়াটা লিমিটেড। পাশাপাশি আগেই প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়া কড়ি ডিজিটাল ব্যাংককে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক আবেদনপত্র গ্রহণ করে। তখন ১৩টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকানার সঙ্গে সম্পৃক্ত আছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী, ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংস্থা, মোবাইল অপারেটর, মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি।
বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সের জন্য আবেদন গ্রহণ করে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিক্ষোভসহ নানা কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সেই অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ছিলেন আহসান এইচ মনসুর।
বিএনপি সরকার গঠনের পর আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে মোস্তাকুর রহমানকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে নতুন করে আর কোনো আবেদন নেওয়া হয়নি। আগের আবেদন থেকেই চারটি প্রতিষ্ঠানকে কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে সম্মত হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ।
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…

