কালো বিড়াল কি অশুভ

কালো বিড়াল কি অশুভ

নূর হোসেন বেসরকারি চাকরিজীবী। ছোট পোস্ট, বেতন খুব কম। সংসারে স্ত্রী আর দুই ছেলেমেয়ে। সংসার আর ছেলেমেয়ের পড়াশোনার খরচ মেটাতেই হিমশিম খেতে হয়। সন্ধ্যায় তাই একটা টিউশনি করেন। মিরপুরের ঘুপচি গলিতে থাকেন ছোট্ট একটা বাসা নিয়ে। পানি ও গ্যাসের সংকট লেগেই আছে। তার ওপর নোংরা গন্ধময় এলাকা। তবুও চোখ-কান বুজে পড়ে থাকতে হয়। নইলে জীবন চলবে কীভাবে?

সেদিনও একটু সকাল-সকাল বেরিয়েছিলেন অফিসের উদ্দেশে। বাসা থেকে বেশ খানিকটা গলি রাস্তা। তারপর মূল সড়ক। কিন্তু সেদিন গলি পার হতে গিয়ে বাধে বিপত্তি। একটা কালো বিড়াল এসে পথ আগলে দাঁড়ায়। মূর্তির মতো জমে যান নূর হোসেন। বেরোনোর পথে কালো বিড়াল, না জানি কত দুঃখ আছে কপালে! বাড়ি ফিরে আসেন, তারপর এক গ্লাস পানি খেয়ে আবার বেরিয়ে পড়েন অফিসের উদ্দেশে।

অফিসে ফিরে সত্যিই দুঃসংবাদ শুনতে হয় নূর হোসেনকে। কোম্পানি কয়েক মাস ধরে লোকসান গুনছে। তাই খরচ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর সেই সিদ্ধান্তে কাটা পড়েছে নূর হোসেনের নাম। দুই মাসের বেতন অগ্রিম তাঁর হাতে ধরিয়ে দিয়ে চাকরিচ্যুত করা হয় তাঁকে। ভেঙে পড়েন নূর হোসেন। কালো বিড়াল দেখেই না তাঁর কপালে শনি ভর করল!

তিনি অফিস থেকে বেরিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেবেন, বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। তখুনি স্ত্রীর ফোন। মেয়েটা খাট থেকে পড়ে পা ভেঙে ফেলেছে! বিপদের ওপর বিপদ। সবই ওই কালো বিড়ালটার জন্য। বাড়ি ফিরে আসেন নূর হোসেন। মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটে যান।

মেয়ে না হয় সুস্থ হলো, অগ্রিম টাকায় না হয় দুই মাস সংসার চলল। কিন্তু এ বাজারে নতুন একটা চাকরি জোটানো কঠিন। কী করবেন তিনি? সবকিছুর আগে ওই বিড়ালটাকে শায়েস্তা করতে হবে। তন্ন তন্ন করে খুঁজেও বিড়ালটার আর সন্ধান পান না তিনি।