রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন র্যাব-২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) নয়মুল হাসান। তিনি বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা অনেক বিস্তৃত এবং আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।
রোববার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের গণমাধ্যম কেন্দ্রে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ‘পাটালি গ্রুপ’-এর দ্বিতীয় শীর্ষ সদস্য মো. শামীম পাটালিসহ আটজন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করার বিষয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
নয়মুল হাসান জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব জানতে পারে যে বসিলা এলাকায় কুখ্যাত পাটালি গ্রুপের সদস্যরা ছিনতাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরে র্যাব-২-এর একটি দল অভিযান চালিয়ে মো. খোকন মুন্সী ও মো. সজীব ব্যাপারীকে আটক করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে চন্দ্রিমা মডেল টাউন এলাকায় অভিযান চালিয়ে শামীম পাটালিকে একটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও দুই রাউন্ড তাজা গুলিসহ গ্রেফতার করা হয়।
র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, শামীম পাটালি এবং তার পরিবারের অন্য সদস্যরা গত ১৫ মে মোহাম্মদপুরে একই পরিবারের সাত সদস্যকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় অভিযুক্ত। পাটালি পরিবারের আরও দুই সদস্য রানা পাটালি ও রাসেল পাটালি হত্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও মাদক-সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, একই রাতে পৃথক অভিযানে চাঁদ উদ্যান এলাকা থেকে মো. শাকিউল করিম ও মো. আরিফকে একটি চাপাতিসহ এবং বাবর রোড এলাকা থেকে হৃদয় ও নয়নকে আরেকটি চাপাতিসহ গ্রেফতার করা হয়। তারা দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পথচারী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া গত ২৪ জুন রায়েরবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাটালি গ্রুপের সদস্য মো. জুয়েল ও তার সহযোগী মো. শাকিলকে একটি তরবারিসহ আটক করা হয় বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, শামীমের বিরুদ্ধে আটটি, আরিফের বিরুদ্ধে চারটি, খোকনের বিরুদ্ধে দুটি, সজীবের বিরুদ্ধে একটি, হৃদয়ের বিরুদ্ধে সাতটি এবং জুয়েলের বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদপুরে বিভিন্ন অপরাধী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে নয়মুল হাসান বলেন, সময়ই এর উত্তর দেবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাত অনেক দীর্ঘ এবং আইনের আওতার বাইরে কেউ থাকতে পারবে না।




