এ প্রস্তাবের ওপর সংসদ নেতা শেখ হাসিনা, বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদসহ ৬৩ জন সংসদ সদস্য আলোচনায় অংশ নেন। পরে প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করা হয়। গতকালের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। অধিবেশন শেষ হওয়ার আগে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনের ভাষণ নিয়ে নির্মিত একটি তথ্যচিত্র সংসদে দেখানো হয়।
গতকাল সমাপনী ভাষণে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে ও পরে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়ন ও অগ্রগতির তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রপ্তানি আয় পাঁচ গুণ বেড়েছে, প্রবাসী আয় বেড়েছে পাঁচ গুণ, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ ৪০ গুণ বেড়েছে। ছেঁড়া কাপড়, দুর্ভিক্ষ, মন্দা এখন আর কোথাও নেই। অতিদারিদ্র্য অর্ধেক কমেছে। মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। মানবসম্পদ উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের ২৫ ধাপ উন্নতি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, দেশের মানুষও বিশ্বাস করে, ১৪ বছর একটানা ক্ষমতায় আছি বলেই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পেরেছি। হ্যাঁ, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সারা বিশ্বে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। তারপরও আমাদের উৎপাদন বৃদ্ধি করে দেশের মানুষের জন্য অতিরিক্ত দামে জিনিস কিনে এনেও আমরা খাদ্যনিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছি। নিম্ন আয়, মধ্যম আয়, সকলের দিকে আমাদের দৃষ্টি আছে। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি মানুষের ভাগ্য গড়তে। এখন গ্রাম আর শহরের পার্থক্য কমে গেছে।’
বিএনপির নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যে বিরোধী দলকে বড় বিরোধী দল বলা হয়, তারা ২০০৮ সালে ২৯টি সিট পেয়েছিল। তারা যদি এত বড়ই বিরোধী দল হয়ে থাকে তাহলে ২৯টি সিট পেল কেন? তারা এত বড় দল কোত্থেকে হয়ে গেল? আর সাজাপ্রাপ্ত আসামি হচ্ছে সেই দলের চেয়ারপারসন। হত্যা-গুম-খুন-দুর্নীতি-জঙ্গিবাদ—সবকিছুতেই যারা পারদর্শী ছিল। তাদের জন্য দেশের মানুষ আতঙ্কে থাকত। এখন তাদের নিয়ে এত উৎফুল্লতা শুরু করছে। এটাই হচ্ছে দুর্ভাগ্য।



