
ফেব্রুয়ারির ভ্যালেন্টাইনস ডে কিংবা ডিসেম্বরের উইন্টার লাভ—প্রেমের জন্য বিশেষ কোনো দিনের প্রয়োজন আছে কি না, এই বিতর্ক বহু পুরোনো। তবুও নাগরিক জীবনের ব্যস্ততায় প্রিয় মানুষকে একটু আলাদাভাবে ‘ধন্যবাদ’ বলার সুযোগ কেউ হাতছাড়া করতে চান না। আর সেই সুযোগেরই একটি চমৎকার অনানুষ্ঠানিক রূপ হলো ৩ অক্টোবর, আন্তর্জাতিক বয়ফ্রেন্ড ডে।
বিগত কয়েক বছর ধরে বিশ্বজুড়ে এবং বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মাঝে এই দিনটি উদযাপনের প্রবণতা দারুণভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু কীভাবে শুরু হলো এই দিনটি এবং কেনই বা এটি বর্তমান সময়ে এত প্রাসঙ্গিক?
ভার্চুয়াল জগৎ থেকে বাস্তব জীবনের ট্রেন্ড
ভ্যালেন্টাইনস ডে-র মতো এই দিবসের পেছনে কোনো ঐতিহাসিক রোমান্টিক ট্র্যাজেডি বা শত বছরের পুরোনো ইতিহাস নেই। এর শুরুটা হয়েছিল মূলত ইন্টারনেট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের হাত ধরে।
২০৮-২০২০ সালের দিকে টুইটার (বর্তমান এক্স) এবং টিকটকে হ্যাশট্যাগ (#NationalBoyfriendDay) ব্যবহারের মাধ্যমে দিনটি প্রথম নজর কাড়ে।
শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে এটি ‘ন্যাশনাল বয়ফ্রেন্ড ডে’ হিসেবে পরিচিতি পেলেও ইন্টারনেটের কল্যাণে তা দ্রুত ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে ‘আন্তর্জাতিক বয়ফ্রেন্ড ডে’-তে রূপ নেয়।
পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্য ও প্রশংসা পাওয়ার অধিকার
মনোবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, এই দিবসটির জনপ্রিয়তার পেছনে একটি মনস্তাত্ত্বিক কারণ রয়েছে। সমাজে সাধারণত পুরুষদের শক্ত, অবিচল এবং আবেগমুক্ত হিসেবে দেখার একটি সনাতন প্রবণতা রয়েছে। সম্পর্কে পুরুষরা কতটা যত্নশীল বা দায়িত্ববান, তা অনেক সময়ই আড়ালে রয়ে যায়।
আন্তর্জাতিক বয়ফ্রেন্ড ডে মূলত সেই দেয়ালটি ভাঙার একটি প্রয়াস। একজন ভালো সঙ্গী, বন্ধু এবং ভরসার জায়গা হিসেবে পুরুষ সঙ্গীর অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাকে মানসিকভাবে অনুপ্রাণিত করাই এই দিনের মূল উদ্দেশ্য।
যেভাবে উদযাপিত হচ্ছে এই দিনটি
এই দিনে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের চেয়ে আন্তরিকতার প্রকাশকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। বিশ্বজুড়ে তরুণ-তরুণীরা বিভিন্নভাবে এই দিনটি উদযাপন করছেন:
• সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্বীকৃতি: প্রিয় সঙ্গীর সাথে কাটানো সুন্দর মুহূর্তের ছবি বা ভিডিও শেয়ার করে ভালোবাসার বার্তা দেওয়া।
• হাতে লেখা চিঠি বা কার্ড: ডিজিটাল যুগেও একটি আন্তরিক হাতে লেখা চিঠি বা ছোট চিরকুট উপহার দেওয়ার ট্রেন্ড এখনো সবচেয়ে জনপ্রিয়।
• পছন্দের খাবার বা গেমিং ডে: সঙ্গীর পছন্দের কোনো খাবার রান্না করা, একসাথে সিনেমা দেখা কিংবা তার প্রিয় কোনো ভিডিও গেমের সঙ্গী হওয়া।
• ছোট কিন্তু অর্থপূর্ণ উপহার: দামি গ্যাজেট নয়, বরং তার নিত্যদিনের প্রয়োজনের কোনো জিনিস বা পছন্দের বই উপহার দেওয়া।
বাণিজ্যিকীকরণ নাকি নিখাদ ভালোবাসা?
অনেকেই দিবস সংস্কৃতির সমালোচনা করে একে বড় বড় ব্র্যান্ডের ‘মার্কেটিং কৌশল’ বলে অবিহিত করেন। তবে তরুণ প্রজন্মের ভাষ্য ভিন্ন। তাদের মতে, বিশ্বজুড়ে যখন সম্পর্কের ভাঙন আর মানসিক দূরত্বের খবর বেশি শোনা যায়, তখন সুস্থ সম্পর্কের প্রশংসা করার জন্য বছরে একটি দিন বেছে নেওয়া মোটেও মন্দ নয়।
এটি কেবল উপহার দেওয়ার দিন নয়, বরং একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নতুন করে মনে করিয়ে দেওয়ার দিন।
আজ ৩ অক্টোবর, আপনিও চাইলে আপনার জীবনের সেই বিশেষ মানুষটিকে একটি সাধারণ টেক্সট মেসেজ কিংবা এক কাপ কফি শেয়ার করে জানিয়ে দিতে পারেন—তার উপস্থিতি আপনার জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ!
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…




