দ্রুততা ও নির্ভুলতার সমন্বয়ে পথচলা শুরু করা চ্যানেল আই অনলাইন ২০ এপ্রিল ১১ বছর পূর্ণ করে পা রেখেছে ১২ বছরে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এবারের স্লোগান ছিল- ‘ভয়হীন স্বাধীন সাহস’। দিনটি উপলক্ষে দর্শক, পাঠক, শুভানুধ্যায়ী ও বিজ্ঞাপনদাতাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এই উপলক্ষে সোমবার বিকেল ৪টায় চ্যানেল আই ভবনের ছাদ বারান্দায় অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠান ‘অ্যালগরিদম যুগে সাংবাদিকতা’। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “অনলাইনে তথ্যের গতি যেমন বেড়েছে, তেমনি ভুল তথ্যের ঝুঁকিও বেড়েছে। এটি শুধু দেশের জন্য নয়, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্যও ক্ষতিকর। তাই এ বিষয়ে সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, চ্যানেল আই অনলাইন এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
ডিজিটাল রূপান্তর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অনলাইন মানেই পুরোপুরি ডিজিটালাইজেশন নয়। ডিজিটাল একটি বৃহত্তর প্রক্রিয়া। সরকার ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজেশনের দিকে এগোচ্ছে।” পাশাপাশি তিনি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকারের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য উপস্থাপন করেন চ্যানেল আই অনলাইনের সম্পাদক ও চ্যানেল আইয়ের চিফ এক্সিকিউটিভ এডিটর জাহিদ নেওয়াজ খান। তিনি বলেন, “অ্যালগরিদম মানুষের চিন্তার পরিসর সংকুচিত করছে। আমরা যা পছন্দ করি, সেটাই বারবার সামনে আসে। ফলে ভিন্ন মত ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আমরা দূরে সরে যাচ্ছি, এটাই বড় উদ্বেগ।”
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, অ্যালগরিদমের এই যুগে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা কতটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তার মতে, ক্লিকবেট সাংবাদিকতা সাময়িক সাফল্য আনতে পারে, কিন্তু আস্থা না থাকলে তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। তিনি বলেন, “শেষ পর্যন্ত সাংবাদিকতার ভিত্তি নীতি ও নৈতিকতাই”।
আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা স্ট্রিমের ইয়াসাব ওসামা রহমান বলেন, অ্যালগরিদমের ভালো-মন্দ দুই দিকই আছে। তবে ভিউয়ের জন্য সাংবাদিকতার মান নষ্ট করা উচিত নয়। এনটিভি অনলাইনের সম্পাদক ফখরুদ্দিন জুয়েল বলেন, “অ্যালগরিদমের কাছে আত্মসমর্পণ করা যাবে না, শক্তিশালী সম্পাদকীয় নীতিই হওয়া উচিত নিয়ন্ত্রণের জায়গা।”
এছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন কবি ও শিক্ষক আফরোজা সোমা, প্রথম আলোর শওকত হোসেন মাসুম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. ইমরান হোসেনসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন চ্যানেল আইয়ের চিফ নিউজ এডিটর মীর মাসরুর জামান রনি। আয়োজনের একটি বিশেষ অংশ ছিল চ্যানেল আই অনলাইন ও ডিজিটালের সেরা সংবাদকর্মীদের পুরস্কার প্রদান। সবশেষে ১২ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে কেক কাটার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২০ এপ্রিল যাত্রা শুরু করে চ্যানেল আই অনলাইন। শুরু থেকেই বস্তুনিষ্ঠতা, তথ্য যাচাই এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাকে প্রাধান্য দিয়ে প্ল্যাটফর্মটি পাঠকের আস্থা অর্জন করেছে। নতুন বছরে প্রবেশ করে সেই ধারাবাহিকতা আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে সংশ্লিষ্টরা।







