ব্যস্ত জীবন, পারস্পরিক প্রতিযোগিতা আর নানা টানাপোড়েনে মানুষের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে প্রতিনিয়ত। তৈরি হচ্ছে ভুল বোঝাবুঝি আর ক্ষোভ। মনের ভেতর জমে থাকা এসব নেতিবাচকতা ও বিদ্বেষ ঝেড়ে ফেলে সুন্দর সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে আজ বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব ক্ষমা দিবস’। প্রতি বছর ২৭ আগস্ট অনানুষ্ঠানিকভাবে এই দিবসটি পালন করা হয়।
দিবসটির মূল লক্ষ্য হলো মানুষের মনের সুপ্ত অহংকার, রাগ ও প্রতিশোধ নেওয়ার মানসিকতা পরিহার করে ক্ষমার মহৎ গুণকে জীবনে ধারণ করা। চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং মনোবিজ্ঞানীদের মতে, কাউকে ক্ষমা করতে না পারা বা মনের ভেতর দীর্ঘস্থায়ী ক্ষোভ পুষে রাখা মানুষের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। এটি উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও অতিরিক্ত মানসিক চাপের অন্যতম কারণ হতে পারে। অন্যদিকে, ক্ষমা করার মানসিকতা মানুষকে মানসিক শান্তি দেয় এবং পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে।
ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ১৯৯৪ সালে ‘খ্রিস্টান এম্বেসি অব ক্রাইস্টস অ্যাম্বাসেডরস’ নামের একটি সংস্থা এই দিবসটির সূচনা করে। পরবর্তীতে এর গুরুত্ব অনুধাবন করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে এই ধারণার চর্চা। বর্তমানে বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এই দিনে মানুষকে পুরনো সব তিক্ততা ভুলে একে অপরকে ক্ষমা করার আহ্বান জানায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্ষমা করার অর্থ এই নয় যে কারও অন্যায়কে মেনে নেওয়া বা প্রশ্রয় দেওয়া। বরং এর অর্থ হলো নিজের ভেতরের নেতিবাচক অনুভূতিগুলোকে বিদায় জানিয়ে নিজেকে মানসিক মুক্তি দেওয়া। বিশেষ করে আজকের এই ডিজিটাল যুগে, যেখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও পরনিন্দা ও বিদ্বেষ ছড়ানোর প্রবণতা বাড়ছে, সেখানে এই ধরনের একটি দিবসের গুরুত্ব অপরিসীম।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে দিবসটি নিয়ে নানামুখী ইতিবাচক আলোচনা দেখা যাচ্ছে। অনেকেই নিজেদের ভুলের জন্য প্রিয়জনদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছেন, আবার অনেকে পুরনো অভিমান ভুলে নতুন করে বন্ধুত্বের হাত বাড়াচ্ছেন।

