খামেনির পাশে ১৪ মাসের নাতনির ছোট্ট কফিন, শেষ বিদায়ে আবেগঘন তেহরান | চ্যানেল আই অনলাইন

খামেনির পাশে ১৪ মাসের নাতনির ছোট্ট কফিন, শেষ বিদায়ে আবেগঘন তেহরান | চ্যানেল আই অনলাইন

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানী তেহরানে শুরু হয়েছে। তবে হাজারো মানুষের শোকের ভিড়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল তাঁর ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মদি গোলপায়েগানির ছোট্ট কফিন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার সকাল থেকেই তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় হাজারো মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হন। অনেকের হাতে ছিল লাল পতাকা। তারা ‘আমেরিকার ধ্বংস’ এবং ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’ স্লোগান দেন।

খামেনির কফিন ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো ছিল। কফিনের ওপর রাখা ছিল তাঁর কালো পাগড়ি। পাশেই রাখা হয় হামলায় নিহত পরিবারের অন্য সদস্যদের কফিন। এর মধ্যে ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মদি গোলপায়েগানির ছোট্ট কফিন উপস্থিত মানুষের মধ্যে গভীর আবেগের সৃষ্টি করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ৮৬ বছর বয়সী আলি খামেনির পাশাপাশি তাঁর নাতনি জাহরা মোহাম্মদি গোলপায়েগানি এবং পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য নিহত হন।

শুক্রবার খামেনির মরদেহ তেহরানে আনা হয়। তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য ইরান ও প্রতিবেশী ইরাকের বিভিন্ন শহরে ছয় দিনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সোমবার তেহরানে শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মঙ্গলবার কোম শহরে, বুধবার ইরাকের কয়েকটি পবিত্র শহরে এবং বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরে তাঁকে দাফন করা হবে।

শোক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ২৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমি আমার প্রিয় নেতা আলি খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে এসেছি। এমন দিন দেখতে হবে, কখনও ভাবিনি।’

শুক্রবার ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফসহ দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। নতুন বিপ্লবী গার্ড প্রধান আহমাদ বাহিদিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

ইরানের কর্মকর্তাদের ধারণা, আগামী তিন দিনে শুধু তেহরানেই ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি মানুষ শেষকৃত্যের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন।