খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ব্যতিক্রম মামলা, কী বলছে দুদক | বাংলাদেশ

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ব্যতিক্রম মামলা, কী বলছে দুদক | বাংলাদেশ

<![CDATA[

দুর্নীতির তৃতীয় মামলায় বিচারের মুখোমুখি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বলছে, নাইকো দুর্নীতি মামলা বিএনপি নেত্রীর বিরুদ্ধে হওয়া অন্য যেকোনো মামলার চেয়ে ব্যতিক্রম। কেন না এই মামলা তদন্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই ও কানাডার মাউন্টেড পুলিশের মতো দুটি সংস্থা। যাদের রিপোর্টে উঠে এসেছে নাইকোকে কাজ পাইয়ে দিতে দুর্নীতির আদ্যোপান্ত।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ ৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ, কানাডার কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রায় ১৪ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা ক্ষতি করার। প্রায় ১৬ বছর ঝুলে থাকার পর আইনি জটিলতা কেটে গেলে সম্প্রতি আলোচিত এ মামলায় বিচারের মুখোমুখি হন বিএনপি নেত্রী। যদিও বিচার অবৈধ দাবি করে বেগম জিয়ার আবেদন হাইকোর্টে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

 

নাইকো মামলার তদন্তে ৪ থেকে ৫ বার ঢাকায় এসেছিল এফবিআইয়ের বিশেষ একটি দল। সংস্থাটির তদন্তে উঠে এসেছে, নাইকোকে কাজ পাইয়ে দিতে ঘুষ নেয়ার বিষয়টি। তৎকালীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার পরিপূর্ণ বা ভার্জিন গ্যাসফিল্ডকে কীভাবে পরিত্যক্ত দেখিয়ে চুক্তি করেছিল, তার বিশদ বিবরণ উঠে আসে এফবিআইয়ের নথিতে। ঢাকার আদালতেও দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন এ মামলার আসামি ব্যবসায়ী সেলিম ভূঁইয়া। যদিও পরে সাক্ষ্য প্রত্যাহারের আবেদন করেন তিনি।

 

নাইকো দুর্নীতি মামলা তদন্ত করেছে এফবিআই

 

দুদকের আইনজীবী খরশীদ আলম খান সময় সংবাদকে বলেন, ‘এখানে আন্তর্জাতিক দুটি গোয়েন্দা সংস্থা প্রমাণ পেয়েছে যে দুর্নীতি হয়েছে। কাজেই আমি মনে করি, এটা আমাদের জন্য একটা শক্ত প্রমাণ হবে।’

 

সময় সংবাদের সঙ্গে কথা বলছেন দুদক আইনজীবী খুরশীদ আলম খান

 

নাইকোর কেলেঙ্কারি তদন্ত করে কানাডাও। দেশটির মাউন্টেড পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে কীভাবে কানাডা থেকে কয়েকটি দেশ ঘুরে ঘুষের টাকা আসে ঢাকায়। সেই টাকার ভাগ কে কত পেয়েছেন তারও বর্ণনা রয়েছে প্রতিবেদনে। কানাডার আদালতেও নাইকো স্বীকার করেছে, কাজ পেতে ঘুষ দেয়ার কথা।

 

কানাডার মাউন্টেড পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে কীভাবে কয়েকটি দেশ ঘুরে ঘুষের টাকা আসে ঢাকায়

 

অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান বলেন, 

আমরা অভিযোগপত্রে দেখিয়েছি, কাশেম শরীফ, গিয়াস উদ্দিন আল মামুন ও বেগম জিয়া কীভাবে দুর্নীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল।  

 

এফবিআই ও কানাডা পুলিশের ওই প্রতিবেদন ২০১৮ সালে হাতে পায় বাংলাদেশ। দুটি প্রতিবেদনই জমা রয়েছে আদালতে। সে কারণে মাউন্টেড পুলিশের দুজন এবং এফবিআইয়ের ১ জনকে সাক্ষ্য দিতে ঢাকায় আনতে চান দুদক। মিলেছে তাদের সম্মতিও।

 

আরও পড়ুন: খালেদার বিরুদ্ধে কানাডার রয়্যাল পুলিশ ও এফবিআই সাক্ষ্য দিতে সম্মত

 

দুদক আইনজীবী বলেন, 

আমরা দেখাতে চাচ্ছি, এফবিআই ও কানাডার মাউন্টেড পুলিশের মতো দুটি সংস্থা সম্পর্কে তো কোনো প্রশ্ন ওঠানোর আইনগত অধিকার নেই। তারা নিজেরা স্বাধীনভাবে তদন্ত করেছে। কোনো পক্ষপাত ছাড়া তাদের তদন্ত যেহেতু প্রমাণ হয়েছে, সেই দুটি সংস্থার তিন কর্মকর্তাকে আদালতে সাক্ষী হিসেবে পরীক্ষা করার জন্য আমরা আবেদন করেছি। তারাও অপেক্ষায় আছেন, মামলার তারিখ কবে পড়ে। তারা সাক্ষী দিতে রাজি হয়েছেন।

 

দুর্নীতি দমন কমিশন। ছবি: সময় সংবাদ

 

যদিও নাইকো মামলার অভিযোগপত্রে এফবিআই ও কানাডা পুলিশের কাউকে সাক্ষী করা হয়নি। ফলে দেশের আদালতে বিদেশি ব্যক্তি সাক্ষ্য দিতে পারবেন কিনা তা নির্ভর করছে আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর। আর বরাবরের মতো নাইকো মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন বিএনপির আইনজীবীরা।

]]>