নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর খিলক্ষেতে স্থানীয় আলেম-ওলামাদের আপত্তি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় জাকের পার্টি সমর্থিত প্রস্তাবিত ‘বিশ্ব ওরস শরীফ’ মাহফিলের অনুমতি দেয়নি প্রশাসন। আগামী ২১ অক্টোবর কুর্মিটোলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এ মাহফিল আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সোহরাব আল হোসাইন বলেন, ‘জনস্বার্থের বিঘ্ন হয়, এমন কোনো কিছুই খিলক্ষেত থানা এলাকায় করতে দেওয়া হবে না। সেই ধারাবাহিকতায় আয়োজকদের মাহফিলের অনুমতি দেওয়া হয়নি। কারণ, সবার আগে এলাকা এবং এলাকার জনস্বার্থ আমাদের কাছে অগ্রগণ্য।’
স্থানীয় আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই এ ধরনের বড় আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়েছিল খিলক্ষেত ইমাম-উলামা ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটির দাবি ছিল, স্থানীয় ধর্মীয় নেতৃত্বের মতামত উপেক্ষা করে এমন আয়োজন করা হলে এলাকায় ভুল বোঝাবুঝি, উত্তেজনা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। এ আশঙ্কা থেকেই মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ার দাবিতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দেয় সংগঠনটি।
সংগঠনটির সভাপতি ও খিলক্ষেত কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম-খতিব মাওলানা নুরুল ইসলাম কাসেমী প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা ও সামাজিক সম্প্রীতির স্বার্থে এ আয়োজনের অনুমতি না দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলাম। আমাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে জন্য আমরা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই।’
মাওলানা কাসেমী আরও বলেন, ‘আমরা চাই, খিলক্ষেতে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকুক। কোনো আয়োজনকে কেন্দ্র করে এলাকার মানুষের মধ্যে বিভেদ, উত্তেজনা কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হোক, তা আমরা চাই না। জনস্বার্থ ও এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের এ ধরনের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রশংসার দাবিদার।’
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বড় কোনো ধর্মীয় আয়োজনের ক্ষেত্রে আয়োজকদের যেমন দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন, তেমনি স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা, জনমত ও আইনশৃঙ্খলার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি। ধর্মীয় আয়োজনের স্বাধীনতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেই আয়োজনকে ঘিরে জনদুর্ভোগ বা উত্তেজনার আশঙ্কা দেখা দিলে প্রশাসনের দায়িত্বশীল সিদ্ধান্তও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
খিলক্ষেতের এ ঘটনায় শেষ পর্যন্ত প্রাধান্য পেয়েছে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা ও জনস্বার্থের প্রশ্ন। স্থানীয়দের আপত্তি এবং সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রশাসনের সিদ্ধান্তে আপাতত বন্ধ হয়েছে বিতর্কিত এই আয়োজনের উদ্যোগ।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, ধর্মীয় কিংবা সামাজিক—যেকোনো আয়োজনের ক্ষেত্রেই স্থানীয় মানুষের মতামত, জননিরাপত্তা ও সামাজিক সম্প্রীতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। কারণ, কোনো আয়োজনের চেয়ে মানুষের নিরাপত্তা এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বড়।




