নিচতলার পঞ্চম শ্রেণির কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, জানালায় গ্রিল নেই, শুধু কপাট আছে। কক্ষটি স্যাঁতসেঁতে ও অন্ধকারাচ্ছন্ন। সেখানে ক্লাসে উপস্থিত ছিল মাত্র তিন শিক্ষার্থী। গত বৃহস্পতিবার সব মিলিয়ে বিদ্যালয়ে হাজির ছিল ২৮ শিক্ষার্থী।
বৃষ্টির কারণে সেদিন বিদ্যালয়ের ছোট মাঠ কাদা-পানিতে ডুবে ছিল। শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ভারী বৃষ্টি হলে বিদ্যালয়ের দুটি শৌচাগারে পানি ওঠে।
এই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার পেছনে করোনার পরবর্তী সময়ে অনেক অভিভাবকের খুলনা শহর ছেড়ে গ্রামে ফিরে যাওয়াকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন শিক্ষকেরা। প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) আছমা খাতুন প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষার্থী পাওয়া দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
খুলনা বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রাথমিক স্তরে প্রতি ১০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩০ জন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাইরে পড়ছে। তাদের বড় অংশ পড়ছে কিন্ডারগার্টেনে। বাড়তি খরচের পরও অভিভাবকদের বড় অংশ সন্তানকে কিন্ডারগার্টেনে পাঠাচ্ছে।
কেন খুলনার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে, সে বিষয়ে শহরের ছয়টি কিন্ডারগার্টেনে গিয়ে ২০ জন অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। তাঁরা পড়াশোনার মান, শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, তদারকি, সহশিক্ষা কার্যক্রম ও শিক্ষকদের সঙ্গে সহজে যোগাযোগের কথা বলেছেন। বাড়তি খরচের চাপ থাকলেও বাধ্য হয়েই সন্তানকে কিন্ডারগার্টেনে পড়াচ্ছেন।


