জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইউএনইপি গত ২৪ জুলাই প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলেছে, উপকূলীয় উন্নয়ন, অতিরিক্ত আহরণ, চিংড়ি চাষ ও জলবায়ু পরিবর্তনের চাপে কয়েক দশক ধরে হারিয়ে যেতে থাকা ম্যানগ্রোভ আবার ফিরে আসছে। ১৯৮০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ভূ–উপগ্রহের চিত্র বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি বলছে, কেনিয়া, কোস্টারিকা, বেনিন ও ভিয়েতনামে স্থানীয় জনগোষ্ঠী, বিজ্ঞানভিত্তিক সংরক্ষণ, পুনরুদ্ধার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে ম্যানগ্রোভ বন ফিরিয়ে আনা ও সংরক্ষণে সফলতা পেয়েছে।
ইউএনইপি জানাচ্ছে, ম্যানগ্রোভ আয়তনে বিশ্বের ক্রান্তীয় বনের ১ শতাংশের কম হলেও উপকূলের ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে বসবাসকারী প্রায় ২৪০ কোটি মানুষের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ। ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, ভাঙন ও বন্যা থেকে উপকূল রক্ষা, পানি পরিশোধন, বিপুল কার্বন ধারণ এবং মৎস্যসম্পদ রক্ষায় ম্যানগ্রোভের ভূমিকা রয়েছে। দেড় হাজারের বেশি প্রজাতির বন্য প্রাণী এসব বনকে আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহার করে।
ভিয়েতনাম ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফল ন্যাচারাল স্টাডিজ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল স্টাডি বিভাগের অধ্যাপক ফাং নুয়েন হংয়ের এক গবেষণায় বলা হয়, ১৯৫৫ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত চলা যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বোমাবর্ষণে ভিয়েতনামের ৪০ হাজার হেক্টর আয়তনের কান জিও ম্যানগ্রোভ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।
ওই গবেষণায় উঠে এসেছে, ১৯৭৫ সালে যুদ্ধ শেষে ম্যানগ্রোভ বনটির জীববৈচিত্র্য ফেরাতে নানা পদক্ষেপ নেয় ভিয়েতনাম সরকার। মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা করে নির্দিষ্ট প্রজাতির ম্যানগ্রোভ চারা রোপণের মধ্য দিয়ে ১৯৯৬ সালের মধ্যে ৩৫ হাজার একরের মতো ম্যানগ্রোভ বন পুনরুদ্ধারে সফল হয় ভিয়েতনাম সরকার।


