
ছবি: সংগৃহীত
সাড়ে চার বছরের বেশি সময় আগে চাকরিচ্যুত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক উপসহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিনের চাকরিতে পুনর্বহালের পথ খুলেছে। জ্যেষ্ঠতা ও বকেয়া সব সুযোগ-সুবিধাসহ তাকে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে দুদকের করা লিভ টু আপিল প্রত্যাহারের আবেদন মঞ্জুর করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। ফলে হাইকোর্টের রায় বহাল থাকায় শরীফ উদ্দিনের চাকরিতে ফেরার ক্ষেত্রে আর কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) শরীফ উদ্দিনের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সালাহ উদ্দীন দোলন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দুদক আপিল করার অনুমতি চেয়ে যে আবেদন করেছিল, তা প্রত্যাহারের আবেদন মঞ্জুর করেছেন চেম্বার আদালত। এর ফলে জ্যেষ্ঠতা ও বকেয়া সুবিধাসহ শরীফকে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ বহাল রয়েছে।
যেভাবে চাকরিচ্যুত হন শরীফ
২০২২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি দুদকের পটুয়াখালী কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক পদ থেকে শরীফ উদ্দিনকে অপসারণ করা হয়। এর আগে ২০২১ সালের ১৬ জুন পটুয়াখালীতে বদলি হওয়ার পূর্বে তিনি দুদকের চট্টগ্রাম কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। সেখানে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করার সুপারিশ করেছিলেন তিনি।
দায়িত্ব পালনের কারণে প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার অভিযোগ তুলে সে সময় থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছিলেন শরীফ। তার চাকরিচ্যুতির ঘটনা তখন ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে। এর প্রতিবাদে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে সংস্থাটির কর্মীদের অংশগ্রহণে মানববন্ধনও হয়।
চাকরিচ্যুতির আদেশে দুদক কর্মচারী বিধিমালা, ২০০৮-এর ৫৪(২) বিধির ক্ষমতা প্রয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। এই বিধির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশনা চেয়ে ২০২২ সালের ১৩ মার্চ হাইকোর্টে রিট করেন শরীফ উদ্দিন।
হাইকোর্টে রিট ও আপিল বিভাগের রায়
এর আগে একই বিধির আওতায় দুদকের আরেক কর্মকর্তা মো. আহসান আলীকে চাকরিচ্যুত করার ঘটনায় হাইকোর্ট বিধিটি বাতিল করেছিলেন। সেই রায়ের বিরুদ্ধে দুদকের করা আপিল আপিল বিভাগে বিচারাধীন থাকায় ২০২২ সালের ২৫ মে শরীফের রিটের শুনানি স্থগিত রাখেন হাইকোর্ট।
পরে ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে শরীফ আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন। ২০২৩ সালের ১৬ মার্চ আপিল বিভাগ দুদকের আপিল মঞ্জুর করে ৫৪(২) বিধি বাতিল করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বাতিল করেন। পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে বিধিটি সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে প্রয়োগের নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং এ ক্ষেত্রে দুদককে ১২ দফা পর্যবেক্ষণ ও গাইডলাইন অনুসরণের কথা বলা হয়।
পুনর্বহালের নির্দেশ হাইকোর্টের
আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর শরীফ উদ্দিনের রিটের শুনানি আবার হাইকোর্টে শুরু হয়। প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি আদালত রুল জারি করেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ৯ জুলাই দেওয়া রায়ে শরীফের চাকরিচ্যুতির আদেশকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও শুরু থেকেই বাতিল ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে তাকে জ্যেষ্ঠতা ও বকেয়া সব সুযোগ-সুবিধাসহ চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়। রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছিল।
তবে ওই রায়ের বিরুদ্ধে দুদক লিভ টু আপিল করে। পরে আবেদনটি আর পরিচালনা না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সংস্থাটি তা প্রত্যাহারের আবেদন করে। গত ১৫ অক্টোবর আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী আপিলটি আর পরিচালনা না করার নির্দেশনা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। এ কারণে ‘নট টু প্রসিড’ হিসেবে লিভ টু আপিলটি খারিজ করা হয়।
এর ফলে শরীফ উদ্দিনকে জ্যেষ্ঠতা ও বকেয়া সুবিধাসহ চাকরিতে পুনর্বহালের বিষয়ে হাইকোর্টের রায় বহাল রয়েছে। এখন চাকরিতে ফেরার ক্ষেত্রে আর কোনো বাধা নেই তার।
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…




