
বেইজিং, ০৮ অক্টোবর-বেশ কয়েক বছর ধরে বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটের পরিধি আরও বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। এ লক্ষ্যেই ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থাটি নতুন নতুন টুর্নামেন্ট আয়োজন এবং সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অলিম্পিকে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর চীনে খেলাটি নিয়ে তৈরি হওয়া আগ্রহকে কাজে লাগাতে চায় আইসিসি।
সংস্থাটির সিইও সঞ্জোগ গুপ্ত জানিয়েছেন, চীনে একটি ‘সেন্টার অফ এক্সিলেন্স’ বা উৎকর্ষ কেন্দ্র গড়ে তোলার পাশাপাশি শিগগিরই সেখানে একটি ‘টিয়ার-২’ টুর্নামেন্ট আয়োজনেও দেশটির জাতীয় সংস্থাকে সহায়তা করবে আইসিসি। পিটিআইকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে গুপ্ত বলেন, ক্রিকেটকে আরও সহজলভ্য করা এবং নারী ক্রিকেটের প্রসার ঘটানোও তাদের সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ। বিশাল জনসংখ্যার দেশ চীন যদি ভারতের মতো ক্রিকেটপাগল দেশের সঙ্গে তুলনীয় একটি ক্রিকেটের শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হতে পারে, তাহলে এর সম্ভাবনা হবে অসীম।
গত জুলাইয়ে দায়িত্ব নেওয়া আইসিসির এই কর্মকর্তা জানান, দুবাইয়ের ‘আইসিসি একাডেমি’র আদলে একটি ‘সেন্টার অফ এক্সিলেন্স’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আইসিসি ইতোমধ্যে তাদের সদস্য সংস্থা ‘চাইনিজ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন’ (সিসিএ)-এর সঙ্গে কাজ করছে। গুপ্ত বলেন, খেলোয়াড়দের দ্রুত উন্নয়ন এবং উচ্চমানের পারফরম্যান্স কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইসিসি একাডেমির আদলে একটি ‘সেন্টার অফ এক্সিলেন্স’ গড়ে তুলতে সিসিএ আইসিসির সহায়তা পেতে প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
তিনি আরও বলেন, আইসিসির কৌশলগত সহায়তা চীনের ‘জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অফ স্পোর্ট’ (জিএএসসি)-কে ক্রিকেটের উন্নয়নে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে উৎসাহিত করতে পারে। ক্রিকেট ভক্তদের বড় একটি অংশ দক্ষিণ এশিয়ায় বসবাস করলেও ১২৮ বছর পর অলিম্পিকে ক্রিকেটের প্রত্যাবর্তন সিসিএর মতো জাতীয় সংস্থাগুলোকে মূলধারার ক্রীড়া আসরে, যেমন চীনের ক্ষেত্রে ‘ন্যাশনাল গেমস’-এ ক্রিকেটকে তুলে ধরার সুযোগ করে দিয়েছে।
গুপ্ত বলেন, লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ক্রিকেটের প্রত্যাবর্তন সেই প্রেক্ষাপটই বদলে দিচ্ছে, যার মাধ্যমে এতদিন যেসব বাজারে খেলাটিকে উপেক্ষা করা হতো বা গুরুত্ব দেওয়া হতো না, সেসব জায়গাতেও ক্রিকেটকে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, অলিম্পিকে অন্তর্ভুক্তির ফলে প্রাতিষ্ঠানিক ক্রীড়া ব্যবস্থায় ক্রিকেটের গুরুত্ব বাড়ছে। এর মাধ্যমে সরকারের বাড়তি মনোযোগ, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং খেলোয়াড় তৈরির পথ প্রশস্ত হতে পারে। চীনের মতো বাজারগুলোতে এরই মধ্যে এই পরিবর্তনগুলো দেখা যাচ্ছে।
চীনের ২২টি প্রদেশের মধ্যে নয়টিতে ক্রিকেটের উপস্থিতি রয়েছে এবং ‘ন্যাশনাল গেমস’-এ খেলাটি অন্তর্ভুক্ত হলে এই সংখ্যা নিশ্চিতভাবেই বাড়বে। এশিয়ান গেমসে নিয়মিত ক্রিকেট খেলা হওয়ার বিষয়টিও এক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে ২০২২ সালের হ্যাংজু গেমসের পর এশিয়ান গেমস চীনে ক্রিকেটকে উল্লেখযোগ্য পরিচিতি দিয়েছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া কাঠামোর সঙ্গে ক্রিকেটের আরও গভীর সংযুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।
চীনের ‘ন্যাশনাল গেমস’-এ ক্রিকেটকে অন্তর্ভুক্ত করা হলে এই অগ্রগতির গতি আরও বাড়তে পারে। তিনি বলেন, এভাবেই কোনো খেলাকে ব্যবস্থার গভীরে প্রোথিত করা যায়—বিভিন্ন সুযোগ তৈরি করে, প্রদেশগুলোকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করে, কোচ ও অবকাঠামো গড়ে তুলে, খেলাটিকে আরও দৃশ্যমান করে এবং শেষ পর্যন্ত আরও বেশি তরুণ-তরুণীকে খেলার সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে।
দেশটিতে ক্রিকেটের প্রসারে নারী ক্রিকেটকেও জোরালোভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে। বিশেষ করে সিসিএর নীতি অনুযায়ী তাদের সব কর্মসূচিতে ৫০ শতাংশ নারী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বাজার এবং অংশগ্রহণকারী দেশ—দুই দিক থেকেই ক্রিকেটের জন্য চীন একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। বিশেষ করে নারী ক্রিকেটের ক্ষেত্রে দেশটির বিশাল সম্ভাবনার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য।
সম্প্রতি চীনে ১ হাজার ৫০০ দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন একটি ক্রিকেট ভেন্যু চালু করা হয়েছে। এখন আইসিসি, সিসিএর সহায়তায় সেখানে একটি ‘টিয়ার-২’ টুর্নামেন্ট আয়োজনের ব্যাপারে আগ্রহী। গুপ্ত বলেন, অদূর ভবিষ্যতে আইসিসির ‘টিয়ার-২’ টুর্নামেন্ট আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে চাইনিজ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (সিসিএ) অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিকীকরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হলে তা সরকারি মহলের কাছে একটি জোরালো বার্তা পৌঁছে দেবে। একদিকে চীনে ক্রিকেটের প্রসারে আইসিসির দৃঢ় সংকল্পের বিষয়টি স্পষ্ট হবে, অন্যদিকে খেলাটির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে সিসিএ উচ্চাকাঙ্ক্ষী হলে তারা কী ধরনের সহায়তা পেতে পারে, সেটিও পরিষ্কার হবে।
এস এম/ ০৮ অক্টোবর ২০২৬



