চুপ্পুর ‘নাইস অ্যান্ড অ্যাট্রাক্টিভ’ সিদ্ধান্ত

চুপ্পুর ‘নাইস অ্যান্ড অ্যাট্রাক্টিভ’ সিদ্ধান্ত

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট মহাঝড়ে আওয়ামী সরকার লন্ডভন্ড হলো। সবাই নাই হয়ে গেলেন।

বঙ্গভবন নামক ‘সোনার খাঁচায়’ বসে চুপ্পু জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেন, শেখ হাসিনা তাঁর কাছে পদত্যাগপত্র দিয়েছেন এবং তিনি তা গ্রহণ করেছেন।

কিন্তু কয়েক মাস পরই বললেন, হাসিনার পদত্যাগের কথা তিনি শুনেছেন, কিন্তু পদত্যাগপত্র তাঁর কাছে নেই। তাঁর একেক সময় একেক কথার ঝড় দেখে অনেকে তাঁর পদত্যাগ চাইলেও তিনি চাকরি ছাড়লেন না। কেমনে কেমনে জানি পরিস্থিতি ম্যানেজ করে ফেললেন।

কিছুদিন আগে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে থাকার সময় চুপ্পু দিল্লিপ্রবাসী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন বলে পত্রিকায় খবর বের হয়।

এরপরই চুপ্পু তাঁর শোয়া থেকে দাঁড়ানো অবস্থায় যাওয়ার সময়কালীন মাথায় চক্কর মারা রোগটি সামনে এনে পদত্যাগ করেন।

অনেকে প্রশ্ন করছেন, চুপ্পুর বিগত দিনের ঝড় ওঠানো কাজকর্মের জন্য তাঁর বিচার কী করা যাবে?

চুপ্পুর দাবি, সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাঁর বিচার করা যাবে না। এটি হলো রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্ব পালনের সময় করা সব কাজের দায়মুক্তি।

কিন্তু যদ্দুর জানি, দুবাইয়ে টাকা পাচার, মালয়েশিয়ায় ‘সেকেন্ড হোম’-এই সব অভিযোগের দায়মুক্তি ৫১ অনুচ্ছেদ দেবে না।

ফলে চুপ্পুর এই পদত্যাগ সত্যিই ‘নাইস’, নিঃসন্দেহে ‘অ্যাট্রাক্টিভ’, কিন্তু নিঃশব্দে নিঃশেষ নয়।

  • সারফুদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক।

    ইমেইল: [email protected]
    * মতামত লেখকের নিজস্ব।