<![CDATA[
‘আইন ব্লিক জাগ্ট মেয়ার আলস থাউজেন্ট ভরটে’ জার্মান ভাষার এ কথাটির মানে হলো এক পলক হাজারো শব্দের চেয়েও বেশি কথা বলে। এ চোখ শুধু কথাই বলে না জানান দেয় অনেক জটিল রোগের লক্ষণও।
শরীরের সবচেয়ে স্পর্শকাতর অঙ্গ হলো চোখ। এ অঙ্গের মাধ্যমেই রঙিন এ দুনিয়াকে উপভোগ করার স্বাদ গ্রহণ করা যায়। দৃষ্টিশক্তির পাশাপাশি মস্তিষ্কের কার্যকারিতাতেও বিশেষ প্রভাব ফেলে এই অঙ্গটি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো কারণে চোখ সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হলে একাধিক সমস্যায় ভুগতে হয় রোগীদের। তাই চোখের কোনো সমস্যাকেই হালকাভাবে না দেখার পরামর্শ দিয়েছেন চক্ষু বিশারদরা।
আরও পড়ুন: যক্ষ্মা রোগ নিয়ে ৫টি ভুল ধারণা
চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন জটিল কিছু রোগের প্রভাবে চোখে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে দেখা যায়। যেমন-
১। হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি: শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ালে আইরিশের পাশে সাদা, ধূসর বা নীল বলয় তৈরি হয়। যদিও বার্ধক্যজনিত কারণেও এমন রিং দেখা যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই হাই কোলেস্টেরল উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। যা আগে থেকেই আপনি জেনে নিতে পারেন চোখের মাধ্যমে।
২। ক্যানসার: স্তন ক্যানসারের লক্ষণ প্রকাশ পায় চোখে। ক্যানসারের কোষ যখন শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে তখন আপনার চোখ আপনাকে তা জানাতে পারে।
ক্যানসারে চোখের টিস্যুর মাঝারি স্তরগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক সময় চোখে অস্বাভাবিক ক্ষত বা টিউমারও দেখা যায়। তাই ঝাপসা দৃষ্টি, ব্যথা বা চোখে ঝলকানি কিংবা ভাসমান কিছু অনুভূত হলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
৩। রেটিনার ক্ষতি: অনেক সময় চোখের দৃষ্টিসীমার মধ্যে ধুলোর মতো বস্তু দেখা যায়। বারবার জলের ঝাপটা দিয়ে চোখ পরিষ্কার করলেও সেগুলো যায় না। দৃষ্টিসীমার মধ্যে ঘোরাঘুরি করতে থাকে। এগুলোকে ফ্লোটার বলা হয়। রেটিনা ছিঁড়ে গেলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে চোখের মধ্যে এমন ফ্লোটার দৃশ্যমান হয়। এমন লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা করা উচিত নয়।
আরও পড়ুন: যানজটের কারণে যে রোগের শিকার হচ্ছে মানুষ
৪। ডায়াবেটিস: ঝাপসা দৃষ্টি চোখের একটা সাধারণ সমস্যা। তবে টাইপ ২ ডায়াবেটিস হলেও এমনটা হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে হাই ব্লাড সুগার থাকলে রক্তনালীতে চাপ সৃষ্টি হয়, ফলে চোখে রক্তের মতো লাল দাগ দেখা যায়। চোখে এমন দাগের অর্থ, রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
৫। ছানি বা ম্যাকুলার ডিজেনারেশন: ডায়াবেটিসের কারণে চোখে ঝাপসা দৃষ্টি হতে পারে। অনেক সময় ঘুম কম হলে, ক্লান্তি লাগলেও এমনটা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কখনও তা হতে পারে ছানি বা ম্যাকুলার ডিজেনারেশনের লক্ষণও।
সূত্র: আনন্দবাজার
]]>


