চ্যানেল আইতে লাল গালিচায় বরণ, আপ্লুত ববিতা | চ্যানেল আই অনলাইন

চ্যানেল আইতে লাল গালিচায় বরণ, আপ্লুত ববিতা | চ্যানেল আই অনলাইন

এ বছর দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার একুশে পদক পেয়েছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন কিংবদন্তী চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ববিতা। তাঁর এই প্রাপ্তিতে চ্যানেল আইয়ের পক্ষ থেকে দেয়া হয় বিশেষ সংবর্ধনা।

শুক্রবার দুপুরে ছোটবোন নায়িকা চম্পাকে সঙ্গে নিয়ে চ্যানেল আই ভবনে আসেন ববিতা। সেখানে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড চ্যানেল আই-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর সম্মান জানিয়ে জনপ্রিয় এই চিত্রতারকাকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন এবং ক্রেস্ট প্রদান করে।

পরে বরেণ্য চলচ্চিত্র সাংবাদিক আবদুর রহমানের উপস্থাপনায় একুশে পদক প্রাপ্তি, ব্যক্তিগত জীবন ও ক্যারিয়ারের নানা অজানা বিষয় নিয়ে মনখুলে আলাপচারিতা করেন ববিতা।

জানা যায়, এই প্রথম কোনো টেলিভিশন চ্যানেলের অফিসে এসে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ববিতা। শিগগির এটি চ্যানেল আইয়ের পর্দায় প্রচার হবে।

ববিতা বলেন,“গাড়ি থেকে নেমেই চ্যানেল আই-তে প্রবেশ করে একেবারে অবাক হয়েছি। লাল গালিচা সংবর্ধনা, ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো এবং আমার অনেক পুরোনো ছবি দিয়ে সাজানো দেখে খুবই চমকে গিয়েছি। অপূর্ব অনুভূতি, খুবই ভালো লেগেছে আমার।”

তিনি বলেন,“সত্যি বলতে চারপাশে আমার আগের ছবিগুলো দেখে আমারই চোখ আটকে গিয়েছে। সেগুলো দেখে আমি সেই পূরনো স্মৃতিতে ক্ষণিকের জন্য ফিরে গিয়েছি।”

ববিতা বলেন, চ্যানেল আই এতো সুন্দরভাবে ইমোশনালি আমাকে সম্মান জানাবে আমি আসার আগে ভাবতেই পারিনি। চ্যানেল আইয়ের সাগর সাহেব, রহমান সাহেব সবাইকে আমি ধন্যবাদ জানাই। আমার সবসময় সম্মান জানানোর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

১৯৫৩ সালের ৩০ জুলাই জন্ম নেয়া ববিতা ১৯৬৮ সালে শিশুশিল্পী হিসেবে জহির রায়হান পরিচালিত ‘সংসার’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন।

চলচ্চিত্র জগতে তার প্রাথমিক নাম ছিলো ‘সুবর্ণা’। জহির রায়হানের ‘জ্বলতে সুরুজ কি নিচে’ সিনেমাতে অভিনয় করতে গিয়েই তার নাম হয়ে যায় ‘ববিতা’।

নায়িকা হিসেবে ববিতার প্রথম সিনেমা ‘শেষ পর্যন্ত’। তাঁর আসল নাম ফরিদা আক্তার পপি। কিন্তু চলচ্চিত্রে আসার পর পরিচিতি পেয়েছেন ববিতা নামে।

ক্যারিয়ারে তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। তাঁর চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে- অশনি সংকেত, অনঙ্গ বউ, আলোর মিছিল, লাইলি মজনু, চ্যালেঞ্জ, জন্ম থেকে জ্বলছি, দহন, দিপু নাম্বার টু উল্লেখযোগ্য।

১৯৭৫ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রবর্তনের পর টানা তিনবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন রূপালি পর্দার এই অভিনেত্রী। এছাড়াও ২০১৬ সালে তাঁকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়।

ছবি: নাহিয়ান ইমন