ছেলের জন্য বলিউডে দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন বিবেকের বাবা!

বলিউডে তারকা সন্তানদের (স্টার কিড) কাজ ও ক্যারিয়ার নিয়ে প্রায়ই স্বজনপ্রীতির কথা শোনা যায়। অধিকাংশ সাধারণ দর্শক ও সমালোচকরা মনে করেন, তারকার সন্তান হওয়ার সুবাদে তারা কোন কঠিন সংগ্রাম ছাড়াই বড় প্রোডাকশনের সিনেমা ও কাস্টে সহজেই সুযোগ পান।

তবে বলিউডে সফর শুরু করার সময়টা খুব সহজ ছিল না প্রবীণ অভিনেতা সুরেশ ওবেরয়ের পুত্র অভিনেতা বিবেক ওবেরয়ের জন্য।

পুত্রের স্বপ্নপূরণ করতে গিয়ে নিজের সংগ্রামের দিনগুলিই যেন আবার ফিরে এসেছিল প্রবীণ অভিনেতা সুরেশ ওবেরয়ের জীবনে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই সময়ের কথা স্মরণ করেছেন অভিনেতা।

সুরেশ জানান, ছবিতে সুযোগ পেতে যথেষ্ট লড়াই করতে হয়েছিল বিবেককে। বর্ষীয়ান অভিনেতার কথায়, “ওর জন্য আবার সংগ্রাম করতে হয়েছিল। দরজায় দরজায় ঘুরেছি। আগে যেমন একটা সময়ে নিজের ছবি নিয়ে ঘুরেছি। পরে বিবেকের ছবি নিয়েও ঘুরতাম।”

সেই সময়ে পরিচালক রামগোপাল বার্মার সঙ্গে কাজ করছিলেন সুরেশ। রামগোপাল তখন তার ছবি ‘কোম্পানি’র জন্য অভিনেতা খুঁজছিলেন। সুরেশের কাছ থেকে বিবেকের অভিনয়ের ‘টেপ’ দেখতে চান পরিচালক। ব্যবস্থা করেন সুরেশ।
এরপর বিবেকের অভিনয় দেখার জন্য তাদের বাড়িতে যান রামগোপাল। তার অভিনয়ে মুগ্ধ হন পরিচালক।

শেষ পর্যন্ত ‘কোম্পানি’ ছবিতে গ্যাংস্টার চন্দ্রকান্ত নাগরের চরিত্রে বিবেককে সুযোগ দেন তিনি। ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অজয় দেবগন, মোহনলাল, মনীষা কৈরালা এবং অন্তরা মালী।

২০২২ সালে এক সাক্ষাৎকারে নিজের কর্মজীবনের শুরুর দিকের প্রায় দু’বছরের সংগ্রামের কথা জানিয়েছিলেন বিবেকও। বাবার পরিচয়ের প্রভাব থেকে নিজেকে দূরে রাখতে অডিশনের সময়ে নিজের পদবি পর্যন্ত ব্যবহার করতেন না বলে জানিয়েছিলেন অভিনেতা।

বিবেক বলেছিলেন যে, তিনি ‘বিবেক আনন্দ’ নামে বিভিন্ন প্রযোজনা সংস্থার দফতরে যেতেন। অডিশনের জন্য ৬ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে অপেক্ষা করেছেন। বাবার প্রযোজনায় ছবি করার প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তিনি। তার পরে প্রায় দু’বছর ধরে প্রতিদিন সংগ্রাম এবং একের পর এক প্রত্যাখ্যানের মুখোমুখি হয়ে অবশেষে ‘কোম্পানি’-তে সুযোগ পান। নিজের যোগ্যতা ও প্রতিভার জোরেই জায়গাটি তৈরি করতে পেরেছিলেন বলে মনে করেন তিনি এবং তা নিয়ে গর্বিত ছিলেন বিবেক।