ভারতের তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছে অভিনেতা-রাজনীতিক থালাপতি বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেত্রি কাহাগাম’ (টিভিকে)। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি দলটি। ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।
২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় টিভিকে পেয়েছে ১০৮টি আসন, দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ডিএমকে, তাদের আসন ৫৯টি; আর তৃতীয় অবস্থানে থাকা এআইএডিএমকে পেয়েছে ৪৭টি আসন। কোনো দলই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।
তামিলনাড়ু বিধানসভার বর্তমান মেয়াদ শেষ হচ্ছে ১০ মে। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, একক বৃহত্তম দল হিসেবে প্রথমে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ পেতে পারেন বিজয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি যদি ১১৮ বিধায়কের সমর্থন দেখাতে ব্যর্থ হন, তাহলে রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে।
এদিকে রাজনৈতিক নাটকীয়তায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন ডিএমকে সভাপতি ও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন। তিনি জানিয়েছেন, ডিএমকে অন্তত ছয় মাস টিভিকের সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করবে না। স্ট্যালিনের এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অন্যদিকে, এআইএডিএমকে নিজেদের নির্বাচিত বিধায়কদের ভাঙন ঠেকাতে পুদুচেরির একটি রিসোর্টে সরিয়ে নিয়েছে বলে জানা গেছে। দলটি শর্তসাপেক্ষে টিভিকেকে বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা করছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে তিনটি সম্ভাব্য সমীকরণ সামনে আসছে- প্রথমত, যদি বাম দল ও ভিসিকে টিভিকের সঙ্গে জোট করে, তাহলে বিজয়ের দল সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা পেয়ে যেতে পারে। টিভিকের ১০৮ আসনের সঙ্গে কংগ্রেসের ৫ এবং সিপিআই, সিপিএম ও ভিসিকের ২টি করে আসন যোগ হলে মোট সংখ্যা দাঁড়াবে ১১৯।
দ্বিতীয়ত, বিজয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে ব্যর্থ হলে ডিএমকে বা এআইএডিএমকে-নেতৃত্বাধীন অন্য কোনো জোট সরকার গঠনের দাবি জানাতে পারে। বিশেষ করে ছোট দল ও বিদ্রোহী বিধায়কদের নিয়ে বিকল্প সমীকরণের চেষ্টা চলছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
তৃতীয়ত, কোনো দল বা জোটই যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখাতে না পারে, তাহলে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিধানসভা ভেঙে দিয়ে আগামী ছয় মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচনের পথ তৈরি হবে।
সব মিলিয়ে, তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এখন নজর একটাই- শেষ পর্যন্ত কি সরকার গড়তে পারবেন ‘থালাপতি’ বিজয়, নাকি রাজ্য এগোবে নতুন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার দিকে। সেটা অবশ্য সময়ই বলে দিবে। যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই একের মধ্যে থালাপতি ১১৮ আসনের ব্যবস্থা করে সরকার গঠনের ডাক দিবেন। ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস






